
শেষ আপডেট: 1 February 2019 09:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বন্ধুর সঙ্গে বাজি লড়ে, মাকে খুন করে মায়ের হৃদপিণ্ড বার করে নিয়েছিল ছেলে। ঘর থেকে ছুটে বেরোতে গিয়ে ছেলে চৌকাঠে হোঁচট খেলে, হাতের হৃদপিণ্ড বলে উঠেছিল, "আহা, বাছা লাগেনি তো!"
ছোটবেলায় এই গল্পটা কমবেশি আমরা সকলেই শুনেছি। সন্তানের জন্য মায়ের স্নেহের চূড়ান্ত নিদর্শন হিসেবে এ গল্প প্রচলিত হয়েছে মুখে মুখে। এরকম এক তরফা তীব্র স্নেহ ঠিক না ভুল, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। বিতর্ক আছে, চরম বিপদে পড়লে মানুষ সত্যিই কি নিজের চেয়েও আগে বাঁচাতে চায় সন্তানকে? কিন্তু বিতর্কের ঊর্ধ্বে একটা কথা অস্বীকার করা যায় না, মায়ের স্নেহের কোনও বিকল্প হয় না। সন্তানের প্রাণ রক্ষায় মায়ের আকুতি তুলনাহীন।
তেমনই একটি ঘটনার প্রমাণ রাখল গাজিয়াবাদের অগ্নিকাণ্ড। আগুনে ভস্মীভূত, ভেঙে পড়া বাড়ি থেকে নিজের চার সন্তানকে বাঁচিয়ে নিজের প্রাণ হারালেন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক মা।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজিয়াবাদের একটি বিস্কুট কারখানায় হঠাৎই আগুন লেগে যায়। একতলার ওই কারখানার উপরেই সপরিবার থাকতেন ২৭ বছরের ফতিমা। কারখানাটি তাঁর স্বামীই চালাতেন। তাঁদের চারটি ছোটো ছেলেমেয়ে রয়েছে। পরিবার সূত্রের খবর, আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন ফতিমা। হঠাৎ আগুন দেখে খুবই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। শরীরও খারাপ হয়ে যায় তাঁর। কিন্তু অত বিপদেও মাথা ঠান্ডা রাখেন তিনি।
আগুন তখন নীচের তলা থেকে ওপরে উঠে আসছে। জ্বলছে সিঁড়ির পথ। বেরোনো অসম্ভব। বাচ্চাদের নিয়ে বারান্দায় দৌড়ে যান ফতেমা। এক একটি বাচ্চাকে বারান্দা থেকে নীচে ফেলে দেন। নীচে তত ক্ষণে ভিড় জমে গিয়েছে। ভিড়ের মধ্যেই ছুড়ে দেন বাচ্চাদের। লুফে নেওয়া হয় তাদের। ন'বছরের ছেলে এবং সাত বছরের মেয়ে গুরুতর জখম হয় আগুনে। বাকি দুই ছোটো মেয়ের চোট তত গুরুতর নয়।
কিন্তু তত ক্ষণে আরও ছড়িয়ে গিয়েছে আগুন। দু'-দু'টো গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েছে। গোটা বাড়ি জ্বলছে দাউদাউ করে। শরীরের ওই অবস্থায় বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিতে পারেননি ফতিমা। তবু বেরোনোর চেষ্টা করছিলেন কোনও ভাবে। কিন্তু আচমকাই জ্ঞান হারান তিনি, আর তখনই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে গোটা বাড়ি। চাপা পড়ে যান ফতিমা।
ফতিমার এক প্রতিবেশী নাসিম সইফির কথায়, "সবাইকে নামিয়ে দিয়েও ফতিমা দোতলায় আটকে পড়েছিল। ওর ভাই আর স্বামী একতলার কারখানায় আগুন নেভানোর চেষ্টা করছিল। ফতিমা প্রেগন্যান্সির শেষ পর্যায়ে ছিল, ভাল করে হাঁটাচলাও করতে পারছিল না কয়েক দিন ধরেই। নীচে ভিড় থেকে সবাই বলছিল বারান্দা দিয়ে লাফাতে। ও নিজে না লাফিয়ে ওর বাচ্চাদের এক এক করে ছুড়ে দেয়। কিন্তু শেষে নিজেই আটকে পড়ল।"
ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। ২৭ বছরের ফতিমার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউ। কিন্তু একই সঙ্গে তাঁরা বলছেন, "নিজে মারা গেলেও ফতিমা চার ছেলেমেয়েকে বাঁচিয়ে প্রমাণ করে গেলেন, সন্তানের নিরাপত্তার সামনে মায়ের নিজের জীবনও ফিকে হয়ে যায়।"