দ্য ওয়াল ব্যুরো: উন্নাও ধর্ষণকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেনগারকে দল লিখিত ভাবে বহিষ্কার করেছে কি না সেই নিয়ে সংশয় রয়েছে। তার মধ্যেই অভিযোগ, নিগৃহীতা ও তার পরিবারের গাড়ি 'দুর্ঘটনা' আসলে বিধায়ক ও তাঁর দলবলেরই চক্রান্ত। জেলে বসেই এই ষড়যন্ত্র করেছিলেন তিনি। প্রবল সমালোচনার মুখে রবিবার সীতাপুর জেলের বাইরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে উন্নাওয়ের চার বারের বিধায়ক কুলদীপ বলেন, "মেয়েটি তাড়াতাড়ি সেরে উঠুক। এই প্রার্থনাই করছি।"
২০১৭-র ৪ জুন কুলদীপ ও তার দলবল যে তরুণীকে ধর্ষণ করেছে, তার প্রমাণ মিলেছে। ২০১৮-র এপ্রিল থেকে উত্তরপ্রদেশের সীতাপুর জেলে বন্দি কুলদীপ। রায়বরেলীতে নিগৃহীতা ও তাঁর পরিবারকে ট্রাক চাপা দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সে দিন ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় নিগৃহীতার কাকিমা ও তাঁর বোনের। যাঁদের মধ্যে এক জন ধর্ষণ মামলার মূল সাক্ষী ছিলেন। নিগৃহীতা এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভেন্টিলেশনে রয়েছেন লখনউয়ের কিং জর্জ হাসপাতালে। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। নিগৃহীতার আইনজীবী মহেন্দ্র সিংকে আজ ভেন্টিলেশন থেকে বার করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে উন্নাও ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলাগুলির শুনানি সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে দিল্লির তিসহাজারি আদালতে। সে জন্য মূল দুই অভিযুক্ত কুলদীপ ও শশী সিংহকে ওই দিন বেলা সাড়ে ১২টার মধ্যে হাজির করানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তার মধ্যেই উন্নাও নিগৃহীতা ও তার পরিবারের গাড়ি 'দুর্ঘটনা' মামলার তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। রবিবার লখনউ, উন্নাও, বান্দা ও ফতেপুর জেলার মোট ২০টি এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছেন সিবিআই অফিসাররা। তল্লাশি চালানো হয়েছে কুলদীপ সেনগারের বাড়িতেও।
চাকরি চাইতে গেলে বিধায়ক তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ এনেছিলেন নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবার। গত বছর বিষয়টা সামনে এলেই প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন বিধায়ক। তিনি, তাঁর ভাই এবং আরও বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নির্যাতিতার পরিবার অভিযোগ তোলে, কুলদীপ নিজে জেল থেকে ফোন করে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁদের চাপ দিচ্ছেন। সেই নিয়ে গত ১২ জুলাই প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লেখেন নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবার। চিঠি দেন ইলাহাবাদ হাইকোর্ট এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারকেও। কিন্তু সে ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ করার আগেই রায়বরেলীতে পথ ‘দুর্ঘটনা’র কবলে পড়েন নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবার। সেই দুর্ঘটনার তদন্ত সাত দিনে শেষ করে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট পেশ করার জন্য গত বৃহস্পতিবার সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।