
শেষ আপডেট: 11 September 2022 05:35
দ্য ওয়্যাল ব্যুরো: তাঁরা একে অপরকে একটা সময় অকৃত্রিম বন্ধু বলতেন। সেই সম্পর্ক এখন শক্রুতায় পর্যবসিত হয়েছে। ক’দিন আগে দিল্লিতে বসে নীতীশ কুমার বলেন, ‘উনি বিহারটাই চেনেন না। শুধু নিজের কথা বলে যান। ওঁর কথার কী গুরুত্ব আছে?’ পাটনায় একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নীতীশকে জবাব দিলেন ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishore)। বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর (Nitish Kumar) উদ্দেশে বলেন, ‘চারজনের সঙ্গে বসে চা খেলেই ভোটের জোট হয় না। রাজনীতির জোট করতে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে হয়। আপনার কী তা আছে?’
দিল্লিতে নীতীশ অভিযোগ করেছিলেন, প্রশান্ত কিশোর বিজেপির বিরুদ্ধে অনেক গর্জন করেন। আসলে তলে তলে বিজেপির সঙ্গে বোঝাপড়া আছে। গেরুয়াবাদীদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন তাঁর লক্ষ্য।
এর জবাবে নীতীশকে ক্ষমতালোভী আখ্যা দিয়ে প্রশান্ত বলেছেন, উনি ক্ষমতার কুর্সির সঙ্গে নিজেকে এমনভাবে সেঁটে রাখেন যে ফেভিকলও হার মানে। ফেভিকল দিয়ে জোড়া লাগানো বস্তুও একটা সময় আলাদা হয়ে যায়। কিন্তু ক্ষমতার কুর্সির সঙ্গে নীতীশের সম্পর্ক অটুট।
প্রশান্ত কিশোর ইদানীং বিহারেই (Bihar Politics) বেশি সময় কাটাচ্ছেন। তিনি ছোট ছোট সভা করে মানুষের মন বোঝার চেষ্টা চালাচ্ছেন। ভোট কুশলীর কাজ থেক সাময়িক অব্যাহতি নেওয়ার আগেও নীতীশের সঙ্গে তাঁর কয়েক দফা কথা হয়। তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, নীতীশকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে তুলে ধরার কাজটা প্রশান্ত করবেন। কিন্তু অজানা কারণে দু’জনের সম্পর্ক ভেঙে যায়। তারপর থেকে প্রশান্তই টানা নিশানা করে আসছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রীকে। তাতে নয়া মাত্রা দেয় বিজেপির সঙ্গে নীতীশ সম্পর্ক ছেদ।
নীতীশকে বিজেপির ভাষায় সুবিধাবাদী, ক্ষমতালোভী ইত্যাদি বলে আক্রমণ শুরু করেন এই ভোট কুশলী। তবে নীতীশ নীরবই ছিলেন। মুখ খোলেন এ সপ্তাগের গোড়ায় দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে।
নীতীশের দিল্লি সফরের উদ্দেশ্য ছিল বিজেপি বিরোধী জোট গঠন। সেই প্রক্রিয়াকে কটাক্ষ করে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর এই কাজে যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রশান্ত।
টিভি চ্যানেলকে প্রশান্ত কিশোর বলেন, ‘শুধু নেতাদের দেখা এবং চার নেতার সঙ্গে চা খাওয়ায় জনগণের ভাবনায় কোনও পার্থক্য হবে না। নির্বাচনেও প্রভাব ফেলবে না। আপনার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষমতা, আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা বা একটি নতুন পরিস্থিতি তৈরিতে এই বৈঠকগুলি অর্থহীন।’
বিহারের রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রসঙ্গে প্রশান্ত কিশোরের বক্তব্য, জাতীয় স্তরে এর কোনও প্রভাব পড়বে না। যে ভোটাররা ২০১৫ সালে বিহার বিধানসভার ভোটে মহাজোটকে ভোট দিয়েছিল তারাই ২০২০-র নির্বাচনে তাদের জেতায়নি। তাই বিহারের রাজনীতির পরিবর্তন এবং দুটি নির্বাচনী ফলাফলের পার্থক্য দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনও প্রভাব ফেলবে না।
প্রসঙ্গত, ২০১৫-র ভোটের সময় নীতীশ কুমার বিজেপির সঙ্গে ছিলেন না। সেবার তিনি লালুপ্রসাদের আরজেডির সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় ফেরেন। দু’বছরের মাথায় আবার বিজেপির কাছে ফিরে গিয়েছিলেন। ২০২২-এ ফের বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে হাত ধরেছেন লালুপ্রসাদের দলের। কিশোর এই সব দৃষ্টান্ত দিয়েই নীতীশের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।