শুভ্র মুখোপাধ্যায়
সময় বয়ে যায় ফল্গুধারার মতো, স্মৃতিটুকু রয়ে যায় সারাজীবনের জন্য। ৪২ বছর আগের কথা, এখনও মনে হয় কত সজীব। যেন সব চোখের সামনে ভাসছে।
১৯৮০ সাল, সেবার রোভার্স কাপে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মহামেডান স্পোর্টিং। লাল হলুদ তারকাদের অনেকেই সেবার মহামেডানে যোগ দিয়েছিলেন। সেই দলে ছিলেন সুরজিৎ সেনগুপ্ত, প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, রঞ্জিত মুখোপাধ্যায়, রমেন ভট্টাচার্যরা। কুপারেজ স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচের আগে মহামেডানের প্রশান্ত, রঞ্জিতদের কাছে সুবর্ণ সুযোগ চলে এসেছিল। কলকাতার ফুটবলারদের প্রথম থেকেই নেশা ছিল মুম্বইতে যখন গিয়েছি, সেইসময় একবার স্টুডিওতে যেতেই হবে।
সেরকমইভাবে ইস্টবেঙ্গলের লোকাল ম্যানেজার ভট্টাচার্যদা-র মাধ্যমে নামী চিত্রপরিচালক বাসু চক্রবর্তীর কাছে তাঁরা আবদার করেন, লতা মঙ্গেশকরের গানের রেকর্ডিং দেখবেন। সেই মতোই তাঁরা চলে যান মেহবুব স্টুডিওতে। সেদিন হিট সিনেমা বসেরা ছবির গানের রেকর্ডিং চলছিল।
মহামেডানের সোনালি সময়ের নামী তারকারা লক্ষ্য করেছিলেন, রাখী গুলজারের লিপে বসেরা ছবির জনপ্রিয় গান লতা একটামাত্র শটেই টেক করে দিয়েছেন। তখন লতা মানেই ছিল ম্যাজিক, সাফল্যের মধ্যগগনে বিরাজ করছেন।
প্রশান্ত বলছিলেন, ‘‘সেদিন লতা আমাদের সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলেছিলেন। কত জ্ঞান ফুটবল নিয়ে। কত ধীরে কথা বলছিলেন আমাদের সঙ্গে। কিংবদন্তি শিল্পী হয়েও মাটির মানুষ ছিলেন তিনি। অহংবোধ অভিধানে ছিল না তাঁর। সেই কারণেই তিনি ছিলেন সঙ্গীত সম্রাজ্ঞী।’’
প্রশান্তদের আক্ষেপ, লতার সঙ্গে বিশেষ মুহূর্তের কোনও ছবি নেই বলে। সেইসময় ছবি তোলার মতো পরিস্থিতিই ছিল না। ছিল না এখনকার মতো দেখনদারী ব্যাপার। ময়দানের নামী প্রাক্তন মিডফিল্ডার বলছিলেন, ‘‘এটা একটা বড় আক্ষেপ, আসলে মনের মধ্যেই ছবি হয়ে গিয়েছে ঈশ্বরের সঙ্গে কাটানো ওই মুহূর্তটা। সত্যিই আমরা ওই কয়েকজন ফুটবলার ভাগ্যবানই বলতে হবে।’’
ময়দানের নামী প্রাক্তন ফুটবলাররা লতাকে অনুরোধ করেছিলেন ফাইনালে মাঠে আসার জন্য। সেই অনুরোধ রাখতে পারেননি সুরের মালকিন। যদিও পরে রোভার্সের সময় মাঠে হাজির ছিলেন লতা। তিনি ক্রিকেট নন, পাশাপাশি ফুটবলের প্রতিও তাঁর ভালবাসা ছিল। ফুটবলারদের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ভাল ছিল।