
শেষ আপডেট: 31 August 2023 20:53
রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দকে নিয়ে একটা আলাদা উন্মাদনা তৈরি হয়েছে আসমুদ্র হিমাচল (Praggnanandhaa would be world champion near future says Surya sekhar Ganguly)। সবাই প্রায় বলতে শুরু করেছেন প্রজ্ঞানন্দ কি ভারতের সর্বকালের সেরা দাবাড়ু?
এই প্রশ্নটা আপাতত তোলা থাক। কারণ এই সময় তুলনার কোনও জায়গা নেই। কে ভাল, কে মন্দ তার বিচার পরে হবে।
সব থেকে বড় বিষয় হল, প্রজ্ঞানন্দ ভারতের দাবা বিপ্লবের ফসল। শুধু প্রজ্ঞা কেন, বাকি অর্জুন, বিদিত, গুকেশরাও যে কোনওদিন দেশের মুখ উজ্বল করতে পারে। এই যে ‘প্রতিভার গ্রুপ’ সব দাবাড়ুর সঙ্গেই আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। ওরা আমাকে গ্যাঙ্গস কিংবা সূরিয়া বলে ডাকে। প্রত্যেক দাবাড়ুর উঠে আসা আমি দেখেছি। তাদের উন্নতির রুট আমি জানি।
প্রজ্ঞার কথাই ধরুন, চেন্নাইয়ের রমেশের অ্যাকাডেমি থেকে উত্থান। পাশাপাশি আনন্দের স্কুলে তালিম নিয়েছে আধুনিক দাবার। সেই কারণে খুব ছোটবেলা থেকেই দাবার আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পেরেছে।
সব থেকে প্রাসঙ্গিক বিষয় হল, আমরা যে সময় গ্র্যান্ড মাস্টার হয়েছি সেই সময় আমাদের কোচ যাঁরা ছিলেন, তাঁরা ক্রম তালিকায় অনেক নিচে ছিলেন। তাঁরা কেউ জি এম তো ছেড়ে দিন, আন্তর্জাতিক মাস্টারও ছিলেন না। প্রজ্ঞা, অর্জুন, বিদিত সবাই শুরু থেকেই শিখেছে নামী কোনও গ্র্যান্ড মাস্টারের থেকে। আমি বলছি না যে, এটার জন্য ওরা এগিয়েছে, আমরা পারিনি। কিন্তু এগুলি মৌলিক বিষয়। ওদের এই সফলতার একটাই কারণ ওদের ব্যতিক্রমী প্রতিভা।
আমি ১১ বছর বয়সে যখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে হারালাম, সেই একটা ম্যাচেই কিন্তু আমি হারাতে পেরেছি। তারপর নিজেকে ধরে রাখা বা নিজেকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে কৌশল সেটা শেখানোর জন্য যে একজন কাউকে দরকার সেটা আমি পাইনি।
আমি কখনই কোচকে দোষ দেওয়ার পক্ষপাতি নই, ওটা আমার ধাতে নেই। যেটা পারিনি, সেটিতে আমার গাফিলতি ছিল। আমি বলব না যে, আমার শীর্ষে যাওয়ার ক্ষমতা ছিল, পারিনি কোচ ও পারিপার্শ্বিক নানা কারণের জন্য। সবসময় নিজের গাফিলতিকেই বড় করে দেখে এসেছি।
এটা বলতেই পারি প্রজ্ঞা অন্য গোলার্ধের তারকা। ওর মাটির সঙ্গে সংযোগ। পাশাপাশি শুরু থেকেই যাদের সামনে দেখছে তাঁরা মাটিরই মানুষ। আনন্দ, রমেশ এরা সবাই ডাউন টু আর্থ। এতটাই বিনয়ী ও ভদ্র যে প্রজ্ঞার মানসিকতা তৈরিতে তাঁদের এই প্রভাব উপেক্ষা করা যাবে না।
আর এই ধরনের গেমে এই মানসিকতা বহু ক্ষেত্রে সহায়তা করে থাকে। এতে মানসিক চাপ অনেক কমে গিয়ে ফুরফুরে থাকতে পারে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ভারতের দাবা প্রজ্ঞানন্দ, অর্জুন, বিদিতদের হাতে যথেষ্ট সুরক্ষিত। এরা সবাই প্রতিভাবান। এবার দাবা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রজ্ঞা ও অর্জুনের মধ্যে যে কেউই ম্যাচটি জিততে পারত। তাই প্রজ্ঞা তো বটেই, পাশাপাশি বাকিরাও সমান সেরা হওয়ার ক্ষমতা রাখে। সকলের জন্যই শুভকামনা জানাই।
(সূর্যশেখরের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এটি অনুলিখন করা হয়েছে)
আরও পড়ুন: নীরজের পাখির চোখ ডায়মন্ড লিগে 'সোনা'র হ্যাটট্রিক, বুদাপেস্টের রেকর্ড ভাঙবে কি বর্শাফলক