
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 December 2023 22:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: শান্তিনিকেতন মানেই মনে পড়ে রবীন্দ্রনাথ, বিশ্বভারতীর কথা। সেইসঙ্গে পৌষমেলা তো আছেই। সেই কবে থেকে শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লি মাঠে হয়ে আসছে এই মেলা। কিন্তু বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর 'আপত্তি'তে গত দু'বছর সেই স্থানে হয়নি পৌষমেলা। তবে এবার ফের পুরনো ঠিকানায় ফিরছে শান্তিনিকেতনের এই ঐতিহ্যবাহী মেলা।
গত নভেম্বর মাসেই বিশ্বভারতীর উপাচার্য পদের মেয়াদ শেষ হয়েছে বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর। বর্তমানে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সঞ্জ্যকুমার মল্লিক। শুক্রবার তাঁর তত্ত্বাবধানেই কর্মিসমিতির বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে ঠিক হয়, এবারের পৌষমেলা হবে পূর্বপল্লির মাঠেই। কিন্তু আগের মতো অত বড় আকারে হবে না মেলা। মানতে হবে একাধিক নিয়মও।
পৌষমেলা হত বিশ্বভারতীর পূর্বপল্লি মাঠেই। কিন্তু ২০২০ সালে করোনা পর্বে মেলা বাতিল হয়। ২০২১ সালে ফের মেলা বসলেও জায়গা পাল্টে যায়। পূর্বপল্লি মাঠে পৌষমেলা করায় আপত্তি ছিল বিশ্বভারতীর তৎকালীন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর। তাঁর এই সিদ্ধান্তে ঘোর আপত্তি ওঠে সমাজের বিভিন্ন মহলে। বিশ্বভারতীর পড়ুয়া থেকে শুরু করে প্রাক্তনী, এমনকী অধ্যাপকদের একাংশও তীব্র প্রতিবাদ জানায়। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।
ঠিক হয় মেলা হবে ডাকবাংলো মাঠে। গত দু'বছর বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ এবং বোলপুর পুরসভার উদ্যোগে এই মেলা আয়োজিত হয়েছে। কিন্তু এবার সেই পূর্বপল্লির মাঠেই হচ্ছে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের শুরু করা এই মেলা।
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী সরতেই পৌষমেলা পুরনো স্থানে ফেরানোর ব্যাপারে উদ্যোগ নেয় বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ ও শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট। তারা এবিষয়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের কাছে ডেপুটেশনও জমা দিয়েছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতেই এদিন কর্মসমিতির বৈঠক হয়।
সেই বৈঠকের পরই বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়, এবারের মেলা হবে পূর্বপল্লি মাঠেই। তবে পরিবেশ আদালতের দূষণবিধি মেনেই মেলার আয়োজন করা হবে। মেলা আগের তুলনায় ছোট করে হবে। পুরনো জায়গা মেলা ফেরায় উচ্ছসিত সকলেই।