
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 18 July 2024 07:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এমনিতেই বাজারে আনাজপত্রের চড়া দাম নিয়ে চর্চা চলছে দিন কয়েক ধরেই। অনেকেই বলছেন, সব্জির চেয়ে মাংস খেয়ে থাকা ভাল। এবার তার উপরেও কোপ পড়তে চলেছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে ওয়েস্ট বেঙ্গল পোল্ট্রি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এর ফলে মুরগির মাংসের জোগানে টান পড়তে চলেছে রাজ্যজুড়ে।
পোল্ট্রির গাড়িগুলির উপর পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদে এই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংগঠনের কর্তারা। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন থানা এলাকায় চলছে পুলিশের জুলুমবাজি। গাড়ি দাঁড় করিয়ে টাকা আদায় করাটাই যেন নিয়ম হয়ে গেছে। এই তোলাবাজিকে কেন্দ্র করে চলছে মারধরও।
জানা গেছে, পোল্ট্রি ফার্মগুলিতে যে মুরগি উৎপাদন করা হয়, তা গাড়ি করে খোলা বাজারে নিয়ে আসেন ট্রেডাররা। রাজ্যে পোল্ট্রি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের আওতায় এমন ৪,৫৫৭টি গাড়ি চলে রাজ্যজুড়ে। সংগঠনের দাবি, মাঝরাতে পোল্ট্রির গাড়ি দাঁড় করিয়ে ৫০০ টাকা করে করে আদায় করা এখন নিত্যরুটিনে পরিণত হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থানা এলাকায় সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা ঘটে, সেখানে গাড়ির খালাসি ১০০ টাকা দিতে চাইলে, তাঁর উপর চড়াও হয় পুলিশ। সংগঠনের দাবি, ওই চালককে নিগ্রহ করা হয়। মারের চোটে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এর পরেই পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতর-- সর্বত্র মেল করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি সংগঠনের। তার সাত দিন পরে কোনও উত্তর না আসায়, আজ থেকে ধর্মঘটের ডাক দেন তাঁরা।
সংগঠনের তরফে বলা হচ্ছে, অকারণে এই টাকা আদায় তথা পুলিশি জুলুমবাজি চলবে না। টাকা না দিতে পারলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যবসার ক্ষতি হয়, কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি বদলায় না। তাই প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তার আশ্বাস না পেলে তাঁরা ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
তথ্য বলছে, প্রতি সপ্তাহে রাজ্যে প্রায় তিন কোটি কেজি মুরগি উৎপাদন হয়। তার মধ্যে ২ কোটি ২০ লক্ষ কেজি চাহিদার জোগান দেওয়া হয় রাজ্যে, বাকিটা পাঠিয়ে দেওয়া হয় পাশ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে। এই পরিস্থিতিতে এই ধর্মঘটের কারণে মাংসের জোগান ব্যাহত হবে।
তবে পোল্ট্রির আর এক সংগঠন, ওয়েস্ট বেঙ্গল পোল্ট্রি ফেডারেশনের তরফে জানানো হয়েছে, তারা এই ধর্মঘট সমর্থন করে না। পুলিশি জুলুমের নিন্দা করলেও, প্রশাসনের উপর ভরসা করা উচিত। সাধারণ ক্রেতাদের সমস্যা তৈরি করে ধর্মঘট ডাকার প্রয়োজন নেই।