দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশি হেফাজতে প্রৌঢ়কে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছিল সিঁথি থানায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, তাঁর দেহে আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। বাঁ হাতের কনুইয়ে এবং কানের কাছে রয়েছে ভোঁতা কিছু দিয়ে আঘাত করার চিহ্ন। তবে ওই আঘাতগুলির ফলেই যে প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়েছে, এমনটা উল্লেখ করা নেই ময়নাতদন্তে। প্রৌঢ়ের মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা রয়েছে হৃদরোগ। আবার থানার ভিতর মারধর করার ফলেই এই আঘাতগুলি লেগেছে কিনা, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। কারণ, পড়ে গিয়েও ওই রকম আঘাত লাগতে পারে।
চোরাই মাল বিক্রির অভিযোগে ফেব্রুয়ারি মাসের ১০ তারিখে গ্রেফতার হয়েছিলেন ৫৪ বছরের রাজকুমার সাউ। তাঁকে জেরা করার সময়ে লকআপেই মারা যান তিনি। অভিযোগ ওঠে, পুলিশের মারেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। ক্ষিপ্ত জনতা থানা ভাঙচুর করে। পুলিশ অবশ্য দাবি করে, তাঁকে থানার লকআপে কোনও রকম মারধর করা হয়নি। তিনি অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছেন।
এসবের মধ্যে বিজেপির তরফে দাবি ওঠে, রাজকুমার সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন বলেই পুলিশের প্রতিহিংসার শিকার তিনি। রাজকুমারের পরিবারের তরফেও বারবারই দাবি করা হয়, বাড়ি থেকে সুস্থ অবস্থাতেই বেরিয়েছিলেন মানুষটি। থানাতেও ঢুকেছিলেন সুস্থ শরীরে। কিন্তু মৃত অবস্থায় তাঁকে বের করা হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তাঁরা। রাজকুমারের ছেলে দীপক সাউ বলেন, "আমার বাবা কোনও দোষ করেননি। পুলিশ স্রেফ পিটিয়েই মেরে ফেলল।"
বিচার পেতে তাঁর পরিবারের লোকেরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। হাই কোর্ট পুলিশকে রিপোর্ট জমা দিতে বলেন। বুধবার আদালতে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। তিন জন পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল ওঠে। তাঁদের মধ্যে যিনি রাজকুমারকে জেরা করেছিলেন, সেই সাব-ইনস্পেক্টর সৌমেন্দ্রনাথ দাসকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। বাকি দু’জনকে পুলিশ ক্লোজ করেছে। পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের রিপোর্টই মৃত্যুর কারণ বলতে পারবে।
রিপোর্ট বলছে, হৃদরোগেই মারা গেছেন রাজকুমার। এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, যে কোনও মৃত্যুই তো শেষমেশ হৃদ্যন্ত্র বিকল হওয়ার কারণে হয়। এমনও হতে পারে আঘাতের কারণেই হৃদযন্ত্র আক্রান্ত হয়েছে তাঁর। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কারও উপরে শারীরিক অত্যাচার করা হয় বা মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে হৃদযন্ত্রে প্রভাব পড়তে পারে। এই কারণে বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে জমা পড়া ওই রিপোর্টে এ-ও বলা হয়েছে যে, ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে হওয়া ‘ভিসেরা’ পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ বিশদে ব্যাখ্যা করা যাবে।
যদিও রাজকুমারের ভাই রাকেশ সাউ বলেন, ‘‘ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আঘাতের চিহ্ন আছে বলে জানানো হয়েছে। ওই আঘাত থেকেই দাদার মৃত্যু হয়েছে, হৃদ্রোগে নয়। আমার সামনে দাদাকে মারধর করা হয়েছিল। দাদা চেয়ার থেকে পড়ে যায়, বুকেও লাথি মারা হয়। দাদার মৃত্যু মারধরের জেরেই হয়েছে।’’