
শেষ আপডেট: 30 September 2020 18:30
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, নির্যাতিতা তরুণীর গলার কাছের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকা তিন জন ডাক্তারই বলেছেন, গলা টিপে প্রথমে মারার চেষ্টা হয়। পরে দড়ি বা কাপড় পেঁচিয়ে বারে বারে ফাঁস দেওয়া হয় গলায়। তার কারণ একাধিক ফাঁসের দাগ ছিল মেয়েটির গলার চারপাশে। ফাঁসের দড়ি বা কাপড় টাইট করে পেঁচিয়ে দমবন্ধ করে খুন করার চেষ্টা করে অপরাধীরা। এই প্যাঁচের কারণেই মেয়েটির গলার কাছের হাড় ভেঙে যায়। ঘাড় বেঁকে যায়।
মারধরের চিহ্নও ছিল মেয়েটার সারা শরীরে। ডাক্তাররা বলেছেন, স্পাইনাল কর্ড বা মেরুদণ্ডের উপরের দিকে হাড়গুলো মারাত্মকভাবে জখম ছিল। বিশেষত, সার্ভাইকাল ভার্টিব্রার সি৬ অস্থি ভেঙে গিয়েছিল। শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল তরুণীর। মানুষের দেহের মেরুদণ্ড অনেকগুলো কশেরুকা নিয়ে তৈরি হয়। মোট ৩৩টি কশেরুকা থাকে। মেরুদণ্ডের উপরের দিকে গলার কাছাকাছি যে কশেরুকাগুলি থাকে তাকে সার্ভাইকাল ভার্টিব্রা বলে। এতে সাতটি অস্থি থাকে। ডাক্তাররা বলছেন, এই অস্থিগুলোতে মারাতমকভাবে জখমের ছাপ ছিল তরুণীর। কয়েকটি ভেঙে গিয়েছিল মারের চোটে। যে কারণে মেয়েটার সারা শরীর প্যারালাইসিস হয়ে গিয়েছিল। হাত-পায়ের সাড় চলে গিয়েছিল।
জওহরলাল নেহরু হাসপাতালে প্রথমে ভর্তি করা হয় তরুণীকে। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সফদরজঙ্গ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই ১৪ দিন বাঁচার লড়াই চালিয়েছিলেন নির্যাতিতা। কিন্তু জখম এতটাই বেশি ছিল এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হচ্ছিল যে শেষপর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।