দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুজফফরপুরের অলিতে গলিতে ছবি সাঁটা পোস্টার। ‘নিখোঁজ’ তেজস্বী যাদবকে খুঁজে দিতে পারলেই হাতে হাতে নগদ ৫,১০০ টাকা পুরস্কার। পোস্টারের বয়ানে লেখা, লোকসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই কার্যত উধাও লালুপুত্র তেজস্বী। অতএব তাঁর খোঁজ চাই অবিলম্বে।
মুজফফরপুরের জায়গায় জায়গায় এ হেন পোস্টার সেঁটেছেন সমাজকর্মী তমন্না হাশমি। তাঁর কথায়, “তেজস্বী নিজেকে গরিব, অনগ্রসর, দলিতদের নেতা বলে দাবি করেন। মুজফফরপুরে যখন একের পর এক শিশু মৃত্যু হচ্ছে, তখন কোথায় তিনি? একমাত্র ক্ষমতায় আসার পরেই কি সক্রিয় হবেন তিনি?” তমন্নার দাবি, নেতা-মন্ত্রীরা ভোট পাওয়ার জন্য দলিত-অনগ্রসর-সংখ্যালঘুর তাস খেলেন। কিন্তু ভোট ফুরালে, প্রয়োজন মিটলে সব ভোঁ ভাঁ।
মুজফফরপুর-সহ বিহারের নানা এলাকায় ইতিমধ্যেই এনসেফেলাইটিসের প্রকোপে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১২০। মুজফফরপুরের একাধিক হাসাপাতেল ভর্তি প্রায় শ’তিনেক শিশু। গত সোমবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন ও রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্বে থাকা মঙ্গল পাণ্ডের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন তমন্না। এনসেফেলাইটিসের প্রকোপে শিশু মৃত্যুর জন্য দুষেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকেও।
https://twitter.com/ANI/status/1142013502342803457
গত ২৩ মে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই কার্যত জনসমক্ষে আসেননি তেজস্বী যাদব। রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) নেতাদের কাছেও তাঁর এই অন্তর্ধানের ব্যাপারে কোনও সদুত্তর নেই। গত বুধবার দলের সহ-সভাপতি রঘুবংশ প্রসাদ সিংহ সম্প্রতি জানান, ক্রিকেট বিশ্বকাপ দেখতে তেজস্বী হয়ত ইংল্যান্ড গিয়েছেন। বিধায়ক ভাই বীরেন্দ্র একবার জানিয়েছিলেন তেজস্বী নাকি অসুস্থ, তবে লালুপ্রসাদ যাদবের পরিবারের তরফে এই বিষয় নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
তমন্না হাশমির দাবি, “রাজ্য জুড়ে খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি, লুঠপাটের মতো ঘটনা বেড়েই চলেছে। অথচ নীরব দর্শকের ভূমিকায় রাজ্য সরকার। বলা বাহল্য, রাজ্য সরকারই মনে হচ্ছে আইসিইউতে পৌঁছে গেছে।” সেই সঙ্গেই তাঁর প্রশ্ন, রাজ্যের সরকার যখন সব দেখেও নিষ্ক্রিয়, তখন বিরোধিদেরই কি এগিয়ে আসা উচিত ছিল না? অবাককাণ্ড, এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী নেতাদেরই কোনও পাত্তা নেই।