দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা রাজনীতিক নভজ্যোৎ সিং সিধু (Sidhu) আচমকা পদত্যাগ করায় সংকট সৃষ্টি হয়েছিল পাঞ্জাব কংগ্রেসে। পরে মুখ্যমন্ত্রী পরমজিৎ সিং চান্নির সঙ্গে বৈঠকের পরে তিনি পদত্যাগপত্র ফিরিয়ে নেন। এই পরিস্থিতিতে শনিবার তিনি টুইট করে বললেন, কোনও পদে থাকুন বা না থাকুন তিনি সবসময় প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি ও কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর পাশে থাকবেন।
টুইটে সিধু লিখেছেন, "আমি গান্ধিজি ও শাস্ত্রীজির আদর্শে বিশ্বাসী। পদ পাই বা না পাই, সবসময় রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরার পাশে দাঁড়াব। নেতিবাচক শক্তিগুলি আমাকে পরাজিত করতে চাইছে। কিন্তু ইতিবাচক শক্তির সাহায্যে আমি পাঞ্জাবকে জিতিয়ে দেব।"
গত ২৮ সেপ্টেম্বর সিধু পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেন। তিনি বলেন, রাজ্যের ভবিষ্যতের সঙ্গে আপস করতে পারবেন না। একটি সূত্রে জানা যায়, চান্নি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রশাসনের শীর্ষপদে এমন কয়েকজনকে নিয়োগ করেছিলেন, যাঁদের সিধুর পছন্দ হয়নি। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন রাজ্যের পুলিশ প্রধান ইকবাল প্রীত সিং সাহোতা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুখজিন্দর সিং রণধাওয়া।
একটি সূত্রে খবর, সাহোতাকে শীঘ্র পুলিশ প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেবেন চান্নি। রণধাওয়া ছিলেন কংগ্রেসে সিধুর প্রতিপক্ষ ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং-এর ঘনিষ্ঠ। তাঁর ভাগ্যে কী ঘটবে জানা যায়নি।
এর পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপটেন অমরিন্দর সিংকেও নিয়ে চলছে জল্পনা। তিনি দিল্লিতে এসে দেখা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে।
এই খবর শোনার পরে অনেকের ধারণা হয়, বিক্ষুব্ধ অমরিন্দর বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। যদিও বৃহস্পতিবার ক্যাপটেন নিজে বলেছেন, তিনি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না। তবে কংগ্রেসেও আর থাকবেন না। পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করার জন্য অমিত শাহের সমালোচনা করেছে কংগ্রেস।
পাঞ্জাবে বিধানসভা ভোটের কয়েক মাস বাকি থাকতে তাঁকে সরিয়ে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড দলিত চরণজিত চান্নিকে মুখ্যমন্ত্রী করায় ক্ষুব্ধ, অপমানিত বোধ করছেন অমরিন্দর। অমিত শাহের বৈঠকের পর অমরিন্দর ট্যুইট করেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চলা কৃষক আন্দোলন নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁকে নয়া কৃষি আইন বাতিল, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করে সমস্যা সমাধানের আবেদন করেছেন।
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করেন চান্নি। কেন্দ্রীয় সরকার চিঠি দিয়ে পাঞ্জাব রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, ১ অক্টোবর থেকে রাজ্য কৃষকদের থেকে ধান সংগ্রহ করতে পারবে না। ওই নির্দেশ যাতে প্রত্যাহার করা হয়, সেজন্য চান্নি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন।