দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত বুধবার সকালে জানা যায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ৪১ হাজার ৯৬৫ জন। বৃহস্পতিবার জানা যায়, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৯২। অর্থাৎ একদিনে দেশে সংক্রমণ বেড়েছে ১২ শতাংশ। কিন্তু এদিন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানাল, ১০ মে-র পর থেকে ধারাবাহিকভাবে সাপ্তাহিক পজিটিভিটি রেট কমছে (Covid Positivity rate)। যদিও এখনও কোভিডের দ্বিতীয় ওয়েভ থেকে বেরিয়ে আসেনি দেশ।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ৩১ অগাস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশের ৩৯ টি জেলায় পজিটিভিটি রেট ছিল ১০ শতাংশের বেশি। ওই সময় ৩৮ টি জেলায় পজিটিভিটি রেট ছিল পাঁচ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে। গত জুন মাসে দেশের ২৭৯ টি জেলায় দৈনিক ১০০ জন সংক্রমিত হতেন। ৩০ অগাস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে জানা যায়, এখন ৪২ টি জেলায় দৈনিক সংক্রমিত হচ্ছেন ১০০ জন।
সারা দেশের মধ্যে কেরলেই এখন সংক্রমিত হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি মানুষ। রাজেশ ভূষণ বলেন, "একমাত্র কেরলেই এখন কোভিড অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা ১ লক্ষের বেশি। ১০ হাজার থেকে ১ লক্ষের মধ্যে অ্যাকটিভ কেস রয়েছে চারটি রাজ্যে। সেগুলি হল মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশ।" অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা ১০ হাজারের কম। স্বাস্থ্যসচিব জানান, এখনও পর্যন্ত সারা দেশে ৩০০ জনের শরীরে কোভিডের ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের অস্তিত্ব ধরা পড়েছে।
কোভিড টাস্ক ফোর্সের প্রধান ভি কে পাল এদিন বলেন, "গণেশ চতুর্থী, দেওয়ালি ও ইদের মতো উৎসব পালিত হবে কয়েক মাসের মধ্যেই। গত বছরের মতো এবারেও নানা বিধিনিষেধ মেনে উৎসব পালন করতে হবে। আমরা সাধারণ মানুষের উদ্দেশে আহ্বান জানাচ্ছি, বাড়িতে থেকেই উৎসব পালন করুন।"
করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সাংবাদিক বৈঠকের সময় ভি কে পাল আবেদন জানান, প্রকাশ্য স্থানে গেলে সকলেই যেন মাস্ক পরেন। আইসিএমআরের ডায়রেক্টর জেনারেল বলরাম ভার্গব বলেন, "কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ এখনও রয়েছে। তাই প্রত্যেক নাগরিকের কাছে আবেদন জানানো হচ্ছে, তাঁরা যেন কোভিড বিধি মেনে চলেন।"
ভ্যাকসিনের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে গত কয়েকদিনে টিকাকরণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভারতীয়দের দুই তৃতীয়াংশের শরীরেই তৈরি হয়েছে কোভিড প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি। এর ফলে কোভিডের আরও একটি ওয়েভ এলেও তা দ্বিতীয় ওয়েভের মতো মারাত্মক হবে না। গত এপ্রিল ও মে মাসে দ্বিতীয় ওয়েভ ছিল তুঙ্গে। হাজার হাজার মানুষ সংক্রমিত হয়েছিলেন। হাসপাতালে বেড ও অক্সিজেন সিলিন্ডারের অভাব দেখা গিয়েছিল।