
শেষ আপডেট: 25 June 2023 16:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পর্ন! এমন একটা শব্দ, যা শুনলেই শুরু হয়ে যায় গুজগুজ, ফিসফাস, অর্থপূর্ণ হাসি। প্রকাশ্যে সে শব্দ উচ্চারণ করা অঘোষিতভাবে নিষিদ্ধ। জনসমক্ষে যাই হোক না কেন, বাস্তবের গুড বয় কিংবা গার্লরাও বহুক্ষেত্রেই নীল ছবির জগতের হাতছানি এড়াতে পারে না। যে দেশে বিয়ের আগে যৌনতা শুনলেই লোকজন চোখ কুঁচকে তাকায়, সেক্স নিয়ে হাজার ঢাক ঢাক গুড়গুড়, সেই ভারতেও কিন্তু পর্নোগ্রাফির (pornography) বিশাল বাজার, প্রথম বিশ্বের দেশগুলির কথা আর নাই বা বললাম। আপাত নিষিদ্ধ বলেই হয়তো পর্ন দুনিয়ার প্রতি মানুষের এমন অমোঘ আকর্ষণ। কিন্তু ধরুন যদি পর্নোগ্রাফি কিংবা যৌনতা আর স্নান-খাওয়া-ঘুম কিংবা স্কুল-কলেজ-অফিস যাওয়ার মতো স্বাভাবিক জিনিস হত? তাহলেও কি পর্নের প্রতি এতটাই আসক্তি থাকত মানুষের?
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সেই প্রশ্নই তুলেছেন পর্নহাবের (Pornhub) মালিক সলোমান ফ্রিডম্যান (Solomon Friedman)। বিভিন্ন দেশের সরকার গুলির কাছে তাঁর আর্জি, পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটগুলি নিষিদ্ধ না করে পর্নকে স্বাভাবিক এবং একঘেয়ে করে তোলা হোক (make porn normal and boring)। সলোমন ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, আমাদের বর্তমান সমাজব্যবস্থা ক্রমশ এমন ভাবে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে যৌন স্বাধীনতা এবং অভিব্যক্তি নিয়ে মানুষ গর্ববোধ করে। তাই সরকারেরও উচিত এই নিয়ে ছুৎমার্গ না রাখা।
মাস তিনেক আগেই পর্নহাবের পেরেন্ট সংস্থা মাইন্ডগিককে অধিগ্রহণ করেছিল কানাডার এথিক্যাল ক্যাপিটাল পার্টনারস (ইসিপি) নামে একটি সংস্থা। তারপর থেকেই পর্নহাব, ইউপর্ন সহ বিভিন্ন জনপ্রিয় পর্ন সাইটের নিয়ন্ত্রক এই ইসিপি। কিন্তু মাইন্ডহিক কিনে নেওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে একাধিক দেশে বিভিন্ন আইনি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ইসিপিকে। একটি সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কথা সেই সব সমস্যার প্রসঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেছেন ইসিপির প্রতিষ্ঠাতা সলোমন। সেখানেই তাঁর দাবি, কানাডায় যেভাবে গাঁজা সেবন বৈধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই তার প্রতি মানুষের উদগ্র আকর্ষণ কমে গিয়েছিল, পর্নের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য।
সলোমন জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে এখনও বহু অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়েরা পর্ন দেখে। এছাড়া এই সাইটগুলিতে আগে এমন অনেক জিনিস ছিল যেগুলি যৌন হিংসা এবং নিগ্রহে পরিপূর্ণ। সরকারের মাথাব্যথা সেগুলোই। ওয়েবসাইটগুলির ব্যাবহারকারীদের বয়স যাচাই করার প্রক্রিয়া পুরোমাত্রায় চালু না হওয়া পর্যন্ত বহু দেশই এই সাইটগুলি নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। সলোমন জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তিনি সরকারের সঙ্গে একমত। তাঁরা চান না, অপ্রাপ্তবয়স্ক কেউ সাইটগুলি ব্যবহার করুক। এছাড়া ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য যাতে সুরক্ষিত থাকে, সে ব্যাপারেও পদক্ষেপ নিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দায়িত্ব শুধুই তাঁদের নয়, বরং অপারেটিং সিস্টেমকেও সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে বলে দাবি তাঁর। ডিভাইস এবং ব্রাউজার ভিত্তিক যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
ফ্রিডম্যান আরও দাবি করেছেন, ওয়েবসাইটে ধর্ষণ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌনতা সম্পর্কিত বিষয়বস্তু সীমিত করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই মাইন্ডগিকের বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে এই ধরনের ৮০ লক্ষ বিষয়বস্তু সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে গর্বের সঙ্গে দাবি করেছেন তিনি।
সলোমন জানিয়েছেন, তাঁদের ওয়েবসাইটগুলিতে যারা কন্টেন্ট আপলোড করবেন, তাঁদের প্রত্যেককে বাধ্যতামূলকভাবে নিজেদের পরিচয় দিতে হবে। সেই সমস্ত কন্টেন্ট প্রথমে অলগোরিদম দিয়ে স্ক্যান করা হয়, যাতে কোনও বিষয়ে কপিরাইট থাকলে তা ধরা পড়ে যায়। এরপর সংস্থার কর্মীরা সেগুলি যাচাই করে দেখেন। এতগুলি ধাপ পেরোনোর পর তবেই সেগুলি নেটমাধ্যমে দৃশ্যমান হয়।
রানওয়ে জুড়ে শুধুই শূন্যতা… ফিরে দেখা মহীনের ঘোড়াদের 'সুদিন'-এর ছবি