
শেষ আপডেট: 26 April 2023 05:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জনসংখ্যার নিরিখে বিশ্বের এক নম্বরে উঠে এসেছে ভারত (India Population)। পিছিয়ে গেছে চিন। নাগরিক সংখ্যা ১৪২ কোটি ৮০ লক্ষ। খোদ রাষ্ট্রসঙ্ঘের তথ্য বলছে একথা। দেশে জনগণনার কাজ থমকে থাকলেও জনবিস্ফোরণে উদ্বেগে কেন্দ্রীয় সরকার। তাই শোনা যাচ্ছে, দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আইন আনার (Population control bill) তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন আনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক গত বছর থেকেই চলছে। কিন্তু এখন যা পরিস্থিতি তাতে চিন্তার কারণ আছে বইকি। জনসংখ্যা বেড়েই চলেছে। চিনকেও ছাড়িয়ে গেছে ভারত। ২০২১ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের জনসংখ্যা (Population) ১৪০ কোটি, আর চিনের জনসংখ্যা ১৪১.২৪ কোটি। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১৯ শতাংশের বাস ছিল চিনে এবং ১৮ শতাংশের ভারতে। কিন্তু এখন এই সমীকরণ বদলে গেছে। বিশেষজ্ঞরা আরও পূর্বাভাস দিয়েছেন, অন্তত ১৫০ কোটি জনসংখ্যা দাঁড়াবে ভারতের। চিন থাকবে দ্বিতীয় স্থানে, ১১০ কোটির কিছু কম।
লোকসভা ভোটের আগে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংক্রান্ত বিল সংসদে পেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। তার সঙ্গে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিলও আনা হবে কিনা সে নিয়ে জল্পনা চলছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এবং খসড়া বিল নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে কেন্দ্র।
গাঁজা পাচারের জন্য ফাঁসি! চরম শাস্তি দিতে চলেছে এই দেশ
গত মে মাসে প্রাইভেট মেম্বার বিল হিসাবে রাজ্যসভায় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিল এনেছিলেন বিজেপির সঙ্ঘ-ঘনিষ্ঠ সাংসদ রাকেশ সিন্হা। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবিয়া হস্তক্ষেপ করায় পরে ওই বিল প্রত্যাহার করে নেন রাকেশ। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, ভারতে জন্মহার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাই নতুন করে আইন আনার কথা ভাবছে না সরকার। কিন্তু গত কয়েক দশকে দেশে অভূতপূর্ব জনবিস্ফোরণের ফলে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কারণ যে গতিতে জনসংখ্যা বাড়ছে, সেই হারে সম্পদের জোগান, পরিষেবা দেওয়া কোনও সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। স্বাধীনতার ৭০ বছর পরেও ভারত এখনও পরিশ্রুত পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা, খাদ্য, বাসস্থান, চাকরি, বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রশ্নে সফল হতে পারেনি। কারণ সমস্যার মূল কারণ হল, ক্রমশ বাড়তে থাকা জনসংখ্যা। তাই জাতীয় স্তরে যাতে জনসংখ্যা নীতি এবং আইন আনা যায়, সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছে মোদী সরকার।