.webp)
শেষ আপডেট: 5 October 2023 21:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা থেকে দুপুর গড়িয়ে সন্ধে। পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে ম্যারাথন অভিযানে নেমেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি।
খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের বাড়ি সহ তিন জেলার ১৪টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। তার মধ্যে রয়েছেন অন্তত হাফ ডজন পুর চেয়ারম্যান, আইএএস অফিসার, পুরসভার পদস্থ আধিকারিকও। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই ম্যারাথন জেরাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতরও।
খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের বাড়ির গেট ভেতর থেকে তালাবন্ধ করে চলছে তল্লাশি। তবে ইডির এমন তৎপরতা দেখে সারদা, নারদ তদন্তের কথা মনে পড়ছে আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকীর। নওসাদের কথায়, “দুর্নীতিকে তৃণমূল যে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল, তা স্পষ্ট। তাই এই দুর্নীতির মূল হোতা কে, সেটা খুঁজে বের করার দায়িত্ব তদন্তকারীদের। কিন্তু সারদা, নারদ তদন্তের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়!”
তদন্ত প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে সম্প্রতি আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়েছিল ইডি। ইডির তদন্তকারী আধিকারিক মিথিলেশ কুমার মিশ্রকে তদন্তের দায়িত্ব থেকেই সরিয়ে দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা। নওসাদ বলেন, “হতে পারে আদালতের ভর্ৎসনার হাত থেকে বাঁচতে সবটাই আইওয়াশ।”
বিজেপি-তৃণমূলের বিরুদ্ধে আঁতাতের অভিযোগ এনে এদিনই সল্টলেকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অফিসে ‘চোর ধরো, জেলে ভরো’ কর্মসূচি নিয়েছিল সিপিএম। সেখান থেকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “বছরের পর বছর তদন্তের নামে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া বন্ধ করতে হবে। অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করুক তদন্তকারী সংস্থা।”
বিজেপির মুখে অবশ্য শোনা গিয়েছে ইডির প্রশংসা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের দাবি, “স্কুল শিক্ষকের মতো পুরসভার নিয়োগেও বিস্তর টাকার খেলা হয়েছে। রথীনবাবু (রথীন ঘোষ, খাদ্যমন্ত্রী) খুব চালাক মানুষ। তাই সকলের চোখে ধুলো দিতে খুব সাধারণ জীবন যাপন করেন। তবে ইডির চোখকে ফাঁকি দিতে পারেননি!”
দিল্লির বঞ্চনার প্রতিবাদে এদিনই রাজভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিল তৃণমূল। বিশেষ এই দিনে ইডির অভিযানের নেপথ্য মোদী সরকারের ‘ষড়যন্ত্র’ দেখছে তৃণমূল। দলের অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “দিল্লিতে আমাদের আন্দোলন দেখে ভীত সন্ত্রস্ত বিজেপি। তাই দলের ঘোষিত কর্মসূচির দিনেই ইডিকে লেলিয়ে ভাবছে আন্দোলন বন্ধ করে দেবে। কিন্তু এটা তৃণমূল, এভাবে তৃণমূলের আন্দোলন বন্ধ করা যায় না।”