দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাস স্ট্যান্ডেই প্রসব বেদনা উঠেছিল মধ্য ত্রিশের এক যুবতীর। ছটফট করতে করতে রাস্তায় শুয়ে পড়েছিলেন তিনি। ওই বাস স্ট্যান্ডের কাছেই টহল দিচ্ছিলেন ল্যান্স কর্পোরাল কোমাথি নারায়ণ। ব্যাপারটা বুঝে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে মহিলাকে আড়াল করলেন তিনি। চিৎকার করে কয়েকটা ট্যাক্সি দাঁড়া করানোর চেষ্টা করলেন। তবে মুখ ফেরালেন সব চালকই। মহিলাকে বুকে আগলেই হাতজোড় করে দাঁড়ালেন রাস্তায়। মন গলল এক ট্যাক্সি চালকের। আর দেরী নয়। ট্যাক্সির পিছনের সিটেই জন্ম হল ফুটফুটে ছেলের।
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে এই ঘটনা ঘটে দিনকয়েক আগে। মালয়েশিয়া পুলিশের ল্যান্স কর্পোরাল কোমোথি নারায়ণের চর্চা এখন সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে। এই মহিলা পুলিশের উপস্থিত বুদ্ধি ও দক্ষতা মন জয় করেছে বিশ্ববাসীর। কোমোথির ছবি নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট করে তাঁকে পুরস্কার দেওয়ার কথা ভেবেছে পুলিশ দিরাজা মালয়েশিয়া (রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ)।
বছর সাতাশে কোমাথি ভারতীয় বংশোদ্ভূত। কর্মসূত্রে থাকেন মালয়েশিয়ায়। আগেও বহুবার নিজের কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন ল্যান্স কর্পোরাল কোমোথি। মালয়েশিয়া পুলিশ জানিয়েছে, কোমোথি নিজের কর্তব্যে যেমন অবিচল, তেমনই তাঁর মিষ্টি ব্যবহার ও মানবিকতার প্রশংসা করেন সহকর্মীরাও।
https://www.facebook.com/PolisDirajaMalaysia/photos/a.710790042264639/2717753364901620/?type=3&theater
‘‘ওই মহিলার প্রসব বেদনা উঠেছিল। ছটফট করছিলেন তিনি। ব্যস্ত রাস্তার মোড়ে কেউ তাঁকে বিশেষ আমল দিতে চাননি। আমি সেখানে না থাকলে বিপদ হয়ে যেত,’’ বলেছেন কোমোথি। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে এখনও কেঁপে উঠছেন তিনি। বলেছেন, প্রসব করানোর অভিজ্ঞতা ছিল না। ঝুঁকিটা নিতেই হয়েছিল। ওই মহিলার অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছিল। জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিলেন তিনি। এমন অবস্থায় গাড়ির সামান্য ঝাঁকুনিও বিপজ্জনক হত তাঁর পক্ষে। ট্যাক্সির পিছনের সিটেই তাঁর প্রসব করানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
‘‘নিস্তেজ হয়ে পড়ছিলেন যুবতী। সারা শরীর ঘেমে উঠেছিল। আমি মাথায় হাত বুলিয়ে সাহস দিচ্ছিলাম। সন্তান প্রসবের পরেই নাড়ি-সমেত সদ্যোজাতকে ট্যাক্সিতে নিয়েই হাসপাতালে পৌঁছই,’’ কোমোথি জানিয়েছেন, ছেলে ও মা দু’জনেই সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন।
ছেলের নাম রাখা হয়েছে রিজকি সারদি মাথি-ভারনা। কোমাথির নাম থেকে ‘মাথি’ ধার নিয়ে। আজীবন ছেলের সঙ্গে যেন কোমাথির পরিচয় জুড়ে থাকে সেটাই চেয়েছেন তার মা।
এসিপি মোকসেন মহম্মদ জানিয়েছেন, কোমাথির সঙ্গে ওই ট্যাক্সি চালককেও পুরস্কার দেওয়া হবে। ৪৩ বছরের ওয়াং লং। তিনি না থাকলেও মহিলাকে বাঁচানো অসম্ভব হয়ে পড়ত। কোমাথি অবশ্য এতকিছু নিয়ে ভাবছেন না। তিনি আবার ফিরে গেছেন নিজের কাজে। আরও অনেকের দরকার তাঁকে। যেখানেই সাহায্যের হাত দরকার, ছুটে চলে যাবেন কোমাথি।