দ্য ওয়াল ব্যুরো : দিল্লি পুলিশের হেড কনস্টেবল রতন লাল ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন শান্তশিষ্ট। কখনও ঝামেলায় জড়াতেন না। তাঁর সম্পর্কে এমনই জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। সোমবার পূর্ব দিল্লির হিংসায় তিনি নিহত হয়েছেন। তার পরে বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছে তাঁর পরিবার। রতন লালের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরে বারে বারে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন তাঁর স্ত্রী পুনম। তাঁদের ছেলেমেয়ের সংখ্যা তিন। সিদ্ধি (১৩), কনক (১০) ও রাম (৮)।
সোমবার দুপুরে দয়ালপুর থানার কাছে নাগরিকত্ব আইনের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। তার মধ্যে পড়ে রতন লাল নিহত হন। তাঁর বাড়ি ছিল রাজস্থানের সিকার জেলার ফতেপুর তিথওয়ালি গ্রামে। ১৯৯৮ সালে তিনি দিল্লি পুলিশে চাকরি পান। ২০০৪ সালে পুনমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। পুনমের বাড়ি ছিল জয়পুরে।
দিল্লির বুরারিতে অমৃত বিহার কলোনিতে থাকতেন রতন লাল। সোমবার বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে সিদ্ধি, কনক ও রাম কেঁদেই চলেছে। রতন লালের ভাই মনোজ থাকেন বেঙ্গালুরুতে। তিনি দাদার মৃত্যুর খবর পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় রওনা হয়েছেন দিল্লির পথে। মৃতের আর এক ভাই দীনেশ বলেন, "আমার দাদা অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অব পুলিশেরত সঙ্গে গোকুলপুরীতে গিয়েছিলেন। জনতা তাঁকে ঘিরে ধরে মেরে ফেলে।" পরে তিনি বলেন, "আমার দাদাকে কখনও পুলিশের মতো আচরণ করতে দেখিনি।"
দয়ালপুর থানায় রতন লালের সঙ্গে আড়াই বছর কাজ করেছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনসপেক্টর হীরালাল। তিনিও বলেন, "রতন লালের আচরণ ও কথাবার্তা কখনই পুলিশের মতো ছিল না।"