দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত বছরেই তামিলনাড়ুতে বেদান্তর কারখানার সামনে পুলিশের গুলিতে ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন। সোমবার ওড়িশায় বেদান্তর অ্যালুমিনা রিফাইনারির সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় আন্দোলনকারীদের। তাঁরা বেদান্তর ওই প্রকল্পের জন্য জমি দিয়েছিলেন, তাঁরা এদিন চাকরির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। তখনই পুলিশ গুলি চালায়। এক আন্দোলনকারী ও এক পুলিশকর্মী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশ জুড়ে।
পুলিশের উচ্চপদস্থ অফিসার গুপ্তেশ্বর ভোই জানিয়েছেন, ওড়িশা ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের এক কর্মী ও জনতার মধ্যে থেকে একজন মারা গিয়েছে। মহেশ্বর পতি নামে জনৈক আন্দোলনকারী বলেন, ওই প্রকল্পের আশপাশের তিনটি গ্রামের মানুষ এদিন কারখানার সামনে জড়ো হয়েছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, জমির বদলে চাকরি চাই। রাজ্যের ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের পুলিশরা প্রথমে লাঠি নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারপর বিনা প্ররোচনায় গুলি চালায়। অন্যদিকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা তাদের দিকে পাথর ছুঁড়েছিল। বেদান্ত জানিয়েছে, ওড়িশার লানজিগড়ে তাদের কারখানায় তিন হাজার কর্মী আছেন। তাঁদের মধ্যে ৮৫ শতাংশই ওড়িশার মানুষ।
বেদান্তর অ্যালুমিনিয়াম বিজনেসের চিফ এক্সিকিউটিভ অজয় দীক্ষিত জানিয়েছেন, ওই কারখানায় বছরে ১৯ লক্ষ টন অ্যালুমিনিয়াম উৎপন্ন হয়। বিক্ষোভকারীরা রেল লাইন অবরোধ করেছিল। তার ফলে বক্সাইট সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে। কারখানার সামনের গেটে আগুন লাগিয়ে দেয়। কারখানা চত্বরেরও ক্ষতি করে।
বিক্ষোভের জেরে ওই কারখানায় উৎপাদন বন্ধ আছে। অজয় দীক্ষিত জানিয়েছেন, বক্সাইট সরবরাহ শুরু হলেই কারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদন শুরু হবে। কোম্পানি চায়, আগামী দিনে প্রতি বছরে ৬০ লক্ষ টন অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করতে।
এক পুলিশকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বেদান্ত কোম্পানি কিছুদিন আগে স্থানীয় কয়েকজন কর্মীকে ছাঁটাই করেছিল। তার পরেই গ্রামবাসীরা ক্ষুব্ধ হয়। অন্যদিকে অজয় দীক্ষিত বলেছেন, কাউকে ছাঁটাই করা হয়নি। কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছিল। তখন তারা নিজেরাই ইস্তফা দেয়।
আন্দোলনকারীদের তরফে যিনি নিহত হয়েছেন, তিনি বেদান্ত কারখানায় এক কন্ট্রাকটরের অধীনে কাজ করতেন। বেদান্ত জানিয়েছে, তারা আলোচনার মাধ্যমে বিতর্কের মীমাংসা করতে চায়। এর আগে স্থানীয় নিয়ামগিরি পর্বতে বক্সাইট খননকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আদিবাসীদের সঙ্গে বেদান্ত কোম্পানির বিরোধ হয়। আদিবাসীরা নিয়ামগিরি পর্বতকে পবিত্র মনে করেন। অজয় দীক্ষিত জানান, নিয়মগিরি পর্বতে খননের সিদ্ধান্ত তাঁরা ত্যাগ করেছেন।