দ্য ওয়াল ব্যুরো: হুঁশিয়ারি, হাজারো সতর্কবার্তা, ফেসবুক-টুইটারে গুচ্ছ গুচ্ছ পোস্ট সত্ত্বেও গুজব-দস্যুকে রোখা যাচ্ছে না কিছুতেই। কখনও হাওড়ার টিকিয়াপাড়া, কখনও কলকাতার কাঁকুড়গাছি, গুজবের শিরোনামে উঠে আসছে শহর, শহরতলি থেকে জেলা। কখনও ছেলেধরা, কখনও কিডনি পাচার, কখনও নিছক সন্দেহের বশে গুজব ছড়ানোকে কেন্দ্র করে হওয়া হিংসায় রক্তাক্ত হচ্ছে শহর, রাজ্য। গুজবের পাশাপাশি মাথা চাড়া দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া নানা ভুয়ো খবরও। গুজব ও ভুয়ো খবর, জোড়া ফলার ধাক্কা সামলাতে এ বার গণমাধ্যমকেই হাতিয়ার করল কলকাতা পুলিশ।
অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডেলে দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, "কোনও রকম গুজবকে প্রশ্রয় দেবেন না। গুজবে কানও দেবেন না। ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটস্অ্যাপে ভুল খবর, ছবি, ভিডিও দেখলে তৎক্ষণাৎ স্থানীয় থানায় খবর দিন। পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। "
https://twitter.com/KolkataPolice/status/1099312580781268992
গুজবের জেরে গত শুক্রবারই রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল ফুলবাগানের কাঁকুড়গাছি। শিশু চোর সন্দেহে এক যুবককে ল্যাম্প পোস্টে বেধে বেধড়ক মারধর করা হয়। পুলিশ ওই যুবককে উদ্ধার করতে গেলে, উত্তেজিত জনতার সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১৭জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফুলবাগান থানার পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, শুক্রবার রাতে এলাকায় অচেনা একজনকে ঘুরতে দেখেই সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। এরপরেই শিশুচোর সন্দেহে ওই যুবককে ঘিরে ধরে জনা কুড়ি লোক। তারপরেই শুরু হয় গণধোলাই।
প্রশাসনের তরফে বারবার গণপিটুনির ব্যাপারে সতর্ক করা হচ্ছে জনগণকে। খোদ মুখ্যমন্ত্রীও জনতাকে অনুরোধ করেছেন যে কেউ যেন গুজবে কান না দেয়। কসবা, টালিগঞ্জ, আনন্দপুর, তিলজলা-তোপসিয়াতে ইতিমধ্যেই একাধিক ঘটনা ঘটেছে। কলকাতার বাসিন্দা এক কাশ্মীরি চিকিৎসককে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। নদিয়ায় এক কাশ্মীরি শাল বিক্রেতা আক্রান্ত হয়েছেন। দু’দিন আগেই ছেলেধরা গুজবে উত্তাল হয়ে ওঠে হাওড়ার টিকিয়াপাড়া। 'ছেলেধরা' সন্দেহে এক মহিলাকে আটক করে শুরু হয় গণপিটুনি। পুলিশ উদ্ধার করতে গেলে, পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে এলাকাবাসী। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি।