দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিউটাউন এনকাউন্টার কাণ্ডের তদন্তে এখনও আঁতিপাতি করে তথ্য-প্রমাণ হাতড়াচ্ছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই নিহত গ্যাংস্টারদের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগসূত্রের প্রমাণ মিলেছে। সামনে এসেছে পিংলার আকাশ বলে কোনও ব্যক্তির নাম, যার নাম-পরিচয় দেখিয়ে সিমকার্ড তুলেছিল গ্যাংস্টার জয়পাল ভুল্লার ও জসপ্রীত খারার।
এবার পুলিশ জানাল, ঘটনার আগের রাতের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ধরা পড়েছে দুই মহিলার উপস্থিতিও। এমনকি ওই ফ্ল্যাটের ডাস্টবিন থেকে মিলেছে তিনটি ব্যবহৃত কনডোমও। যাতে আন্দাজ করা যায়, ওই মহিলাদের সঙ্গে যৌন সংসর্গ করেছিল দুই গ্যাংস্টার।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার আগের দিন রাত সাড়ে নটা নাগাদ একটি কালো গাড়িতে করে এসে দুই মহিলা ঢুকে যাচ্ছেন জয়পালদের ওই ফ্ল্যাটের টাওয়ারে। এর পরে রাত ১১টায় সেখানে খাবার ডেলিভারি দিয়ে যান একজন। অন্য়ান্য দিনে যেখানে দু'জনের খাবার অর্ডার করা হত, সেখানে এনকাউন্টারের আগের রাতে চারজনের খাবার এসেছিল। আবার পরের দিন সকাল সাড়ে আটটায় ওই দুই মহিলাকে বেরোতে দেখা যায়। তাদের গাড়িতে তুলে দেয় জয়পাল ও জসপ্রীত।
কিন্তু মেয়ে দুটি কারা, কী তাদের পরিচয়, কোনও উদ্দেশ্য নিয়ে তারা ফ্ল্যাটে এসেছিল কিনা-- এসব কিছুই জানা যায়নি এখনও।
ইতিমধ্যে এই গ্যাংস্টার কাণ্ডে মোহালি থেকে সুমিত কুমার নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, এই সুমিত কুমারই দালাল মারফত নিউটাউনের সাপুরজি এলাকার ওই আবাসনে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিল। সুমিতের থেকে ফ্ল্যাটটি নেয় ভরত কুমার, তাঁর পরিচয়েই ফ্ল্যাটে থাকছিল দুই দুষ্কৃতী জয়পাল ও যশপ্রীত।
সুমিত নিউটাউনের ওই খালি ফ্ল্যাটের সন্ধান পায় কোনও এজেন্সির মাধ্যমে। দুই ব্রোকারের হাত ঘুরে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেয় সে। প্রথম যোগাযোগ হয় ব্রোকার সৌরভ কুমারের সঙ্গে। সৌরভের থেকে ফোন নম্বর নিয়ে সুশান্ত সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করে সুমিত। এই সুশান্তের মাধ্যমেই ভরত কুমারের পরিচয়পত্র দেখিয়ে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেয়। পরে ভরত কুমারের পরিচয়েই ওই ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করে জয়পাল ও যশপ্রীত।
গ্যাংস্টারদের ফ্ল্যাট থেকে যে ল্যাপটপ উদ্ধার হয়েছে তা ঘাঁটাঘাঁটি করে চমকে গিয়েছেন অফিসাররা। ওই ল্যাপটপ চালাত জয়পাল। একাধিক নকল আধার কার্ড তৈরি করছিল সে। ল্যাপটপ থেকে অন্তত ৮০টি জাল পরিচয়পত্রের কপি পাওয়া গেছে।
তদন্তকারীরা বলছেন, এই চক্রের জাল অনেক দূর ছড়িয়েছে। আজই আবার ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ফ্ল্যাট থেকে তৃতীয় ব্যক্তির আঙুলের ছাপ পাওয়া গেছে। সে ব্যক্তি ভরত কুমার কিনা তা এখনও জানা যায়নি। পুলিশ জানাচ্ছে, ওই ফ্ল্যাটে বাইরে থেকে কিছু লোকজনের যাতায়াত ছিল। চলতি মাসেই কেউ বা কারা তাদের ফ্ল্যাটে এসেছিল। তারা কারা সে পরিচয়ও জানার চেষ্টা চলছে।
তার সঙ্গেই জুড়ে গেল অচেনা দুই মহিলাও।