
শেষ আপডেট: 5 April 2024 17:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: শনিবার বারুণী স্নান। শুক্রবার থেকেই ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে ভক্তদের জমায়েত বাড়ছে। এদিন মেলার নিরাপত্তা খতিয়ে দেখলেন বনগাঁর পুলিশ সুপার দীনেশকুমার। জানিয়ে দিলেন, মেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হচ্ছে না।
এদিন পুলিশ সুপার বলেন, কোনও ১৪৪ ধারা এখানে লাগু হবে না। আমি সবাইকে এটা স্পষ্ট করে দিচ্ছি, সবাই আসুন, মেলার আনন্দ উপভোগ করুন। জেলা পুলিশ মেলার নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করার ব্যবস্থা করেছে। প্রায় পাঁচশো পুলিশকর্মী এখানে মোতায়েন করা হচ্ছে। তবে ১৪৪ ধারা জারি করা হচ্ছে না।" মমতাবালার আবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "উনি আবেদন করেছিলেন। সেটা পেন্ডিং অবস্থায় রয়েছে। আমরা সমস্ত বক্তাদের মেলায় আসার জন্য আবেদন করছি।"
প্রতিবছর চৈত্র মাসে মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মগুরু হরিচাঁদ এবং গুরুচাঁদ ঠাকুরের আদর্শে মতুয়া ধামে মহামেলার আয়োজন করা হয়। এবারও সেই মেলা বসবে। শনিবার থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ঠাকুরনগরের শ্রীধামে এই মেলা চলবে। প্রতিবছর এই মেলায় লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। ৭০ বছর ধরে বারুনী মেলা হয়ে আসছে। এবার এই মেলা নিয়ে মমতাবালা ঠাকুর ও শান্তনু ঠাকুরের দ্বৈরথে গত কয়েক দিন ধরেই ঠাকুরবাড়ি সরগরম।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী তথা বনগাঁ লোকসভার সাংসদ শান্তনু ঠাকুর সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিযোগ করেছিলেন, মতুয়াদের ধর্মীয় মেলা বন্ধ করার জন্য মমতা ঠাকুর ১৪৪ ধারা জারি করার আবেদন জানিয়েছেন। শুধু তাই নয় মেলায় যাতে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকে সে নিয়েও চক্রান্ত করে রাজ্য বিদ্যুৎ দফতরের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা বিদ্যুৎ দিতে পারবে না। কিন্তু ১৪৪ ধারা জারি হলেও মেলা হবেই। ওই দিনই তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর জানিয়েছিলেন, মেলাতে অসামাজিক কার্যকলাপ রুখতে ১৪৪ ধারা জারি করার আর্জি জানানো হয়েছে। এতে মতুয়া মেলায় আসা ভক্তদের কোনও অসুবিধা হবে না।"
এরপরেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন ভক্তরা। মেলায় আদৌও আসা হবে কিনা তা নিয়ে দোলাচলে ছিলেন তাঁরা। এদিন মেলা পরিদর্শনের পর পুলিশসুপারের কথায় আশ্বস্ত হলেন সবাই। ভিড়ও ক্রমশও বাড়ছে ঠাকুরনগরের মেলা চত্বরে।