শেষ আপডেট: 6 January 2020 06:27
অর্থাৎ, যেটা পড়ে মনে হয়, ছাত্রছাত্রীদের উপরে পুলিশের লাঠি চালানোর নিন্দা করছেন শিক্ষামন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীকে পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে বলছেন।
অথচ যাদবপুরের এত দিনের রাজনৈতিক ইতিহাস বলে, কার্যত কোনও সমস্যাতেই শিক্ষামন্ত্রীকে পাশে পাওয়া যায়নি। শত সমস্যাতেও তিনি আলোচনায় বসেননি ছাত্রদের সঙ্গে কখনও। এমনকি ২০১৪ সালে তৎকালীন ভিসি অভিজিৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে যখন ক্যাম্পাসে পুলিশ ডেকে ছাত্র পেটানোর অভিযোগ উঠেছিল, তখনও ছাত্রদের পাশে দাঁড়াননি শিক্ষামন্ত্রী। সেই শিক্ষামন্ত্রীই তাঁর দলীয় সুপ্রিমোকে অনুরোধ করছেন পুলিশ যাতে সংযত থাকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ করতে!
এর কিছু পরেই ফেসবুকে আরও একটি পোস্ট দেন পার্থ। লেখেন, "এটাই বাংলার ঐতিহ্য মুখ্যমন্ত্রী সাবাস। গেরুয়া ধারী দের নামে যারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিতরে এবং বাইরে বাংলার ঐতিহ্য কে ভাঙছে তাদের পাশে আমরা আছি গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করতে আমরা আছি।"
এই পোস্টের অর্থ খুব পরিষ্কার না হলেও, এটাই আন্দাজ করা যায় যে ছাত্রছাত্রীদের পাশে আছেন তিনি ও তাঁর দল।
প্রশ্ন উঠেছে, ছাত্রছাত্রীদের মিছিলে পুলিশের এত নরম সুরে ক্ষমাপ্রার্থনা, তার পরেই শিক্ষামন্ত্রীর এই সংহতির সুরে ফেসবুক পোস্ট-- এর কারণ ঠিক কী? রাজনৈতিক মহলে অনেকেই মনে করছেন, বাকি সব বিরোধিতা এখন গৌণ হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের সামনে। বিজেপিকে রুখতে কোনও ভোটব্যাঙ্কই হাতছাড়া করতে চাইছেন না মমতা। সেই কারণেই সমর্থন পাওয়ার জন্য একটি সুযোগও হাতছাড়া করতে চাইছেন না তিনি। তাই এই পরিস্থিতিতে ছাত্রদেরও কোনও ভাবেই তাতাতে চাইছেন না তিনি। তারই প্রতিফলন হয়তো পুলিশ ও শিক্ষামন্ত্রীর আচরণে স্পষ্ট হয়েছে।
সূত্রের খবর, বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা সেই ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে তাদের উপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতেই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় সেই মিছিল। ফের বাঘাযতীনের দিকেই ফিরে যান বিজেপি কর্মীরা। কিন্তু যাদবপুরের পড়ুয়ারা সেখান থেকে ফিরতে রাজি ছিলেন না। তাঁরা রাস্তাতে বসে প্রতিবাদ শুরু করেন। তারপরেই তাঁদের উপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
যাদবপুরের পড়ুয়াদের বক্তব্য, তাঁরা এনআরসি, নাগরিকত্ব আইন, এনপিআর ও গতকাল জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের উপর হামলার প্রতিবাদে এই মিছিল বের করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, নির্বিচারে তাঁদের উপর লাঠি চালিয়েছে পুলিশ। সেখানে কোনও মহিলা পুলিশ না থাকায় পুরুষ পুলিশরাই ছাত্রীদের মেরেছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। অবিলম্বে পুলিশকে ক্ষমা চাইতে হবে, এমনটাই দাবি করেন পড়ুয়ারা।
তার পরেই ভিড়ে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চান কর্তব্যরত অফিসার। তার ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। দেখুন সেই ভিডিও।
https://www.facebook.com/aiswaryadev/videos/3410519982356638/UzpfSTEwMDAwMTIyMjQ1ODIyMjoyOTAxMjExNzUzMjYyODc4/