
শেষ আপডেট: 2 December 2023 19:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: এবার রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া হুগলির হিন্দ মোটরে! দুদিন ধরে মায়ের মৃতদেহ আগলে বসেছিল ছেলে। ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ বের হতেই বিষয়টি জানাজানি হয়। শেষমেশ ঘরের তালা ভেঙে মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনাটি হিন্দমোটরে ১ নম্বর বিএন দাস রোডের একটি আবাসনের। সেখানেই অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ককর্মী কল্যাণী হাজরা তাঁর ছেলে শুভ্রনীলকে নিয়ে থাকতেন। বেশ কিছুদিন ধরে বছর পয়ঁষট্টির ওই মহিলা অসুস্থ ছিলেন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, গত তিনদিন ধরে তাঁদের ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ ছিল। বাড়ির পরিচারিকা আশেপাশের লোকজনদের খবর দেয়। এমনকী প্রতিবেশীদের ডাকতে গেলে তাঁকেও শুভ্রনীল ঘরে আটকে রাখে বলে অভিযোগ। মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফ্ল্যাটের পরিচারিকা গীতা দাস জানিয়েছেন, দুদিন পর শনিবার তিনি কাজে আসেন। এদিন তিনি দেখতে পান, কল্যাণীদেবীর দেহ নিথর অবস্থায় বিছানায় পড়ে রয়েছে। ফ্ল্যাটের ভিতর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। যদিও ছেলে দাবি করেন, ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমোচ্ছেন মা! তখনই সন্দেহ দানা বাঁধে তাঁর। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবেশীদের ডাকতে যান তিনি।
কিছু ক্ষণের মধ্যে প্রতিবেশীদের জড়ো করেন গীতা। কিন্তু দরজা খোলেননি শুভ্রনীল। এলাকার মানুষের সন্দেহ, দিন দুয়েক আগে মৃত্যু হয়েছে কল্যাণীদেবীর। খবর পেয়ে ফ্ল্যাটে পৌঁছন স্থানীয় কাউন্সিলর প্রবীর কংস বণিক। তিনিই পুলিশে খবর দেন। কাউন্সিলর জানিয়েছেন, ওই বাড়ির মা-ছেলে কেউই সেভাবে মেলামেশা করতেন না। তবে বছর পঁয়ত্রিশের শুভ্রনীলের অসুস্থতার কথা আগে জানা ছিল না বলে দাবি কাউন্সিলরের।
খানিকক্ষণের মধ্যেই এসে পৌঁছয় উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। বেশ কিছুক্ষণ ডাকাডাকি করেও না খোলায় পুলিশ দরজা ভাঙতে বাধ্য হয়। এরপর মৃতেদহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পাঠায় পুলিশ। শুভ্রনীলকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।