
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যােপাধ্যায়ের প্রধান উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এডিজি আইনশৃঙ্খলা মনোজ ভার্মা
শেষ আপডেট: 28 June 2024 17:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাম্প্রতিককালে বাংলার একাধিক জেলায় পর পর সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। যদিও বেশ কয়েকটি জায়গায় পুলিশি তৎপরতায় সাফল্য পায়নি ডাকাতের দল। আবার কিছু ক্ষেত্রে দিনে দুপুরে রীতিমতো বন্দুক উঁচিয়ে সোনার দোকানে চলেছে লুটপাঠ। আর চলতি বছরের চারটি ডাকাতির ঘটনায় আন্ত:রাজ্য চক্র ধরল রাজ্য পুলিশ। ওই চারটি ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আন্ত:রাজ্য গ্যাংকে ধরে রাজ্য পুলিশের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যােপাধ্যায়ের প্রধান উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এডিজি আইনশৃঙ্খলা মনোজ ভার্মা। কোন ডাকাতির ক্ষেত্রে তদন্তের অগ্রগতি কতটা হয়েছে, কতজন গ্রেফতার হয়েছেন সেই সমস্ত বিষয়ে জানান তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, চারটি ঘটনার মধ্যে দুটির ক্ষেত্রে ডাকাতির আগে, দুটি ঘটনায় ডাকাতির পরে পুলিশ সাফল্য পেয়েছে। প্রতিটি ডাকাতের দলই বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বলে জানিয়েছেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর, আদ্রা থানার সুভাষনগর, আড়ষা থানার সেনাবনা এবং পুরুলিয়া মফস্বল থানার নদীয়াড়া গ্রামে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পুরুলিয়া মফস্বল থানার নদীয়াড়া গ্রামে ডাকাতি করার সময় ডাকাত দলের ছেড়ে যাওয়া খালি মদের বোতলের সূত্র ধরে আন্তঃরাজ্য ডাকাত দলের সন্ধান পায় পুলিশ। সেই সূত্র ধরে অভিযানে নেমে ঝাড়খণ্ডের ৭ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে ৬টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও জানিয়েছেন, হাওড়ায় ডোমজুড়ের ডাকাতির ঘটনায় বিহারের সমস্তিপুরে তল্লাশি করে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসানসোলের রানিগঞ্জের সোনা দোকানের ডাকাতিতে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স এবং স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে সাফল্য পেয়েছে। অন্যদিকে, বাকুঁড়ায় বড় ডাকাতির ঠিক আগে পুলিশ হাতেনাতে ডাকাত দলকে ধরে ফেলে।
অন্যদিকে, মনোজ ভার্মা জানিয়েছেন, আসানসোলের ডাকাতির ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে এই রাজ্য থেকে এবং আরও দু'জনকে ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে কোচবিহারের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে ৪ জন।
শেষ দু'বছরে এই ধরনের ডাকাতির ঘটনায় প্রতিবেশী রাজ্য থেকে মোট ১৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবিষয়ে মনোজ ভার্মা বলেন, "বিহার, ঝাড়খন্ডের উচ্চ পদস্থ পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। ঝাড়খণ্ড, বিহারের ডিজিপিদের সঙ্গেও কথা হয়েছে।" আগামী দিনে রাজ্যে ডাকাতির ঘটনা আটকানো যাবে বলেও আশাবাদী রাজ্য পুলিশ।