
শেষ আপডেট: 6 March 2024 16:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালির ধৃত তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে আরও ২ টি ধারায় মামলা দায়ের করল পুলিশ। শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশির দিন আক্রান্ত হয়েছিলেন ইডি আধিকারিকেরা। তাঁদের জিনিসপত্র লুঠপাঠ সহ চুরিরও অভিযোগ উঠেছিল। আর সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই নতুন করে তিনটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রথম দুটি শাহজাহানের বিরুদ্ধে এবং একটি মামলা দায়ের হয়েছে শঙ্কর আঢ্যর বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্রের খবর, শাহজাহানের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারা অর্থাৎ সরকারি কর্মীকে দায়িত্ব পালনে বাধা দিতে আক্রমণের অভিযোগ আনা হয়েছে। একইসঙ্গে সন্দেশখালির তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ১২০ বি-তে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারাও দেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে শাহজাহান যে আরও ফাঁপড়ে পড়লেন তা বলাই বাহুল্য।
প্রাথমিকভাবে রেশন দুর্নীতিকাণ্ডেরই অভিযোগ ছিল শাহজাহানের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান শংকর আঢ্যকে গ্রেফতার করেছে ইডি। তাঁর বিরুদ্ধেও নতুন করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শাহজাহানের তদন্তভার সিবিআই-কে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি হরিশ টন্ডনের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, বিকেল সাড়ে ৪টের মধ্যে শেখ শাহাজাহানকে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিতে হবে। যদিও একই নির্দেশ মঙ্গলবারও দিয়েছিল হাইকোর্ট। কিন্তু সন্ধে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও শাহজাহানকে হাতে পায়নি সিবিআই অফিসাররা। কারণ, সিআইডি কর্তারা জানিয়ে দেন, এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে রাজ্য সরকার। তাই শাহজাহানকে এখনই হস্তান্তর করা যাবে না।
সময় যত গড়িয়েছে ততই রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে ইডির হাতে উঠে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ক্রমশ বেড়েছে দুর্নীতির টাকার অঙ্কের হিসাব। একে একে গ্রেফতার হয়েছেন আটাকল মালিক বাকিবুর রহমান, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং তৃণমূল নেতা শঙ্কর আঢ্য। একই দুর্নীতির অভিযোগে সন্দেশখালিতে শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি করতে গিয়ে আক্রান্ত হন ইডি আধিকারিকরা। গত ৫ জানুয়ারি সেই হামলার ঘটনার পর থেকে 'নিঁখোজ' হয়ে যান সন্দেশখালির 'বাঘ'। এরই মাঝে তাঁর বিরুদ্ধে জমি হাতিয়ে নেওয়া থেকে নারী নির্যাতন সহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠতে থাকে। অশান্ত হয়ে ওঠে গোটা সন্দেশখালি গ্রাম। অবশেষে ৫৬ দিন পর সন্দেশখালির মিনাঁখা থেকে শাহজাহানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।