দ্য ওয়াল ব্যুরো : এক কৃষ্ণাঙ্গকে হত্যার প্রতিবাদে গত এক সপ্তাহ ধরে আমেরিকায় চলছে বিক্ষোভ। গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউসের বাইরেও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধুন্ধুমার বাধে পুলিশের। হোয়াইট হাউসের বাইরে লাফায়েত্তি পার্কে জড়ো হয়েছিল বিক্ষোভকারীরা। এক বিদেশি সংবাদ সংস্থার ফটোগ্রাফার দেখেছেন, তাদের তাড়া করেছে ঘোড়ায় চড়া পুলিশ। একইসঙ্গে হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেন থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তিনি অবিলম্বে বড় শহরগুলিতে বিক্ষোভ দমন করবেন। সেজন্য তলব করবেন সেনাবাহিনীকে।
তাঁর কথায়, “যে সব প্রদেশে অশান্তি ছড়িয়েছে, সেখানকার গভর্নরদের উচিত ন্যাশনাল গার্ডদের তলব করা। তাঁরা যদি অবিলম্বে হিংসা থামানোর ব্যবস্থা না করেন, আমি সেনাবাহিনীকে ডাকব।”
হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ শুরু হতে ট্রাম্প আশ্রয় নিয়েছিলেন বাঙ্কারে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দেওয়ার পরে তিনি গিয়েছিলেন সেন্ট জনস এপিসকোপাল চার্চে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম ব্রার। সেখানে বাইবেল হাতে নিয়ে ছবি তোলেন ট্রাম্প।
গত সপ্তাহে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান পুলিশের হেপাজতে মারা যান। ৪৬ বছর বয়স্ক ওই ব্যক্তির ঘাড়ে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার হাঁটু দিয়ে চাপ দিয়েছিলেন প্রায় ন’মিনিট। তাতেই মারা যান ফ্লয়েড। সোমবার তাঁর দেহের অটোপ্সি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা যায়, দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলেই ফ্লয়েডের মৃত্যু ঘটেছে। তিনি খুন হয়েছেন।
ফ্লয়েডের মৃত্যুর খবর শুনেই আমেরিকার বিভিন্ন শহরে শুরু হয় বিক্ষোভ। ২০ টি শহরে জারি হয় কার্ফু। প্রথম থেকেই বিক্ষোভ নিয়ে কড়া অবস্থান নেন ট্রাম্প। তিনি বিভিন্ন প্রদেশের গভর্নরদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তাঁদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অবিলম্বে বিক্ষোভ দমন করতে হবে। তা যদি না পারেন, ধরে নিতে হবে আপনারা সময় নষ্ট করছেন। সোমবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের বাইরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়।