
শেষ আপডেট: 15 January 2024 18:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: ঘুড়ির প্যাঁচে ধরাশায়ী পুলিশের ড্রোন! পৌষ সংক্রান্তির দিনে শ্রীরামপুরে ড্রোন উড়িয়ে ঘুড়ি ওড়ানোয় নজরদারি চালাচ্ছিল পুলিশ। সেখানে ঘুড়ির সুতোয় আটকে মুখ থুবড়ে পড়ল পুলিশের ড্রোন।
পৌষ সংক্রান্তিতে ঘুড়ি ওড়ানোর রেওয়াজ বহু প্রাচীন। সেই ঐতিহ্য বহন করে আসছেন হুগলির মানুষ। সোমবার সকাল থেকে আকাশ ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন। ঘুড়িপ্রেমীরা অপেক্ষায় ছিল কখন আকাশ পরিষ্কার হয়। বেলায় রোদ উঠতেই দেখা গেল শ্রীরামপুরের আকাশে ঘুড়ির ঝাঁক।
কয়েক বছর ধরে ঘুড়ি ওড়াতে নাইলন সুতো বা চাইনিজ মাঞ্জার ব্যবহার বেড়েছে। এই সুতোয় গলার নলি কেটে বহু দুর্ঘটনা ঘটেছে। এমনকী একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাগুলি সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। চিনা মাঞ্জা বিক্রি বন্ধ করতে ব্যবস্থা নেয়। এত কিছুর পরেও রোখা যায়নি এই ধরনের চিনা মাঞ্জার ব্যবহার।
চিনা মাঞ্জা ধরতেই সংক্রান্তির দিনে ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি চালায় শ্রীরামপুর থানার পুলিশ। কিন্তু ঘুড়ি উড়িয়েদের দাপটে সেই ড্রোন ক্যামেরাই ভো-কাট্টা হয়ে যায় । শ্রীরামপুর পাঁচু বাবুর বাজার, রেল ব্রিজের উপর ঘুড়ির প্যাঁচ কাটাকাটির খেলা চলছিল। সেই প্যাঁচে পড়েই পুলিশের ড্রোন মুখ থুবড়ে মাটিতে ছিটকে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু যাদব বলেন, ''পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে ঘুড়ি ওড়ানোর রেওয়াজ আছে। আমরা প্রতি বছর ঘুড়ি ওড়াই। কটন সুতো ব্যবহার করি। কিন্তু অনেকেই আছে চিনা মাঞ্জার সুতো ব্যবহার করেন। যা থেকে দুর্ঘটনা ঘটে। এবিষয়ে মানুষের আরও সচেতন হওয়া জরুরি, তা না হলে মানুষের বিপদ হতে পারে।''
শ্রীরামপুর পুরসভার কাউন্সিলর গৌরমোহন দে বলেন, '' চিনা সুতোয় এর আগে দুর্ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ আজ ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি চালাচ্ছিল। কয়েকজন ছেলে সেই ড্রোনকেই প্যাঁচে ফেলে দেয়। আমরা চাই মানুষ সচেতন হোক। ছোটো ছেলেরা বিষয়টি জানে না। তাই তাঁদের সচেতন করতে পুলিশের প্রচার বাড়ানোর দরকার আছে।“
রবিবারই শেওড়াফুলি বাজারে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু চিনা সুতো আটক করেছিল শ্রীরামপুর থানা। নাইলন মাঞ্জা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তাঁরা আগাম জানিয়েছিল।