
যাদবপুরে চার নম্বর গেটের সামনে ঝামেলা।
শেষ আপডেট: 4 March 2025 00:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাদবপুর ক্যাম্পাসের অশান্তির রেশ এবার শহর কলকাতাতেও। যাদবপুরের ঘটনার প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও গ্রেফতারের দাবিতে এদিন রাতে লেক টাউন ক্লক টাওয়ার থেকে মিছিল শুরু করে বামেরা। লেকটাউন-কালিন্দির মুখে শিক্ষামন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা জ্বালানো হয়।
ঠিক তখনই পুলিশের তরফে বামপন্থী কর্মী ও নেতৃত্বের উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় জখম হয়েছেন সিপিএমের উত্তর ২৪ পরগণা জেলা সম্পাদক পলাশ দাশ সহ দলের বেশ কয়েকজন কর্মী। যদিও পুলিশের তরফে সিপিএম কর্মীদের বিরুদ্ধেই হামলা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে এদিন সন্ধেয় এসএফআই (SFI) এবং এবিভিপির (ABVP) মিছিল পাল্টা মিছিলকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। সূত্রের দাবি, ঝামেলার মধ্যে পড়ে জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন রক্ষী।
খবর পেয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের সামনে পৌঁছয় পুলিশ। আসে ব়্যাফও। ঝামেলার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের সামনে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশও।
গত শনিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজ্যের কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূলপন্থী (TMC) অধ্যাপকদের সংগঠন ওয়েবকুপার (WBCUPA) বৈঠক ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) সভায় গেলে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পরে তিনি বেরনোর সময়ে তাঁর গাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। বনেটে লিখে দেওয়া হয় ‘ব্রাত্য বসু চোর‘!
এই পরিস্থিতিতে ভাঙে শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির কাচও। সেই সময়ই আহত হন মন্ত্রী। অন্যদিকে মন্ত্রীর গাড়িতে চাপা পড়েন ইন্দ্রানুজ রায় নামে এক ছাত্র। তারই জেরে কার্যত রণক্ষেত্রর চেহারা নেয় যাদবপুর ক্যাম্পাস। ঘটনার প্রতিবাদে এদিন বিকেলে যাদবপুর থানা পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছিল বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। গোলপার্ক থেকে পালটা মিছিল বের করে বিজেপির যুবমোর্চা। রাত ৮টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে মুখোমুখি হয় বাম-বিজেপির ছাত্র সংগঠন।
অভিযোগ, সে সময় ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করে বিজেপির যুব মোর্চার সদস্যরা। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে লাগানো থাকা এসএফআইয়ের পতাকা, ফেস্টুন ছিড়ে ফেলা হয়। তা নিয়েই নতুন করে রণক্ষেত্রর চেহারা নেয় ক্যাম্পাস। বাধা দিতে গিয়ে জখম হন কয়েকজন নিরাপত্তা রক্ষীও। এর পরে পুলিশ ও ব়্যাফ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বস্তুত, যাদবপুরের ঘটনা নিয়ে হুঁশিয়ারি পাল্টা হুঁশিয়ারি চলছে। এদিনই বামেদের ছাত্র সংগঠনের নেতাদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক সৌগত রায়। তিনি বলেন, "ওদের সৌভাগ্য যে ছেলেটা আহত, না হলে কেউ সমবেদনা দেখাতো না।" এরপরই বামেদের ছাত্র সংগঠনের উদ্দেশে সৌগতর হুঁশিয়ারি, "তৃণমূলের ২-৩ হাজার লোক যাদবপুরে ঢুকলে ওরা কোথায় বাঁচবে?"
পাল্টা প্রতিক্রিয়া ধেয়ে এসেছে বাম শিবির থেকেও। এসএফআই নেতা শতরূপ ঘোষ বলেন, "পুলিশকে থানায় বসিয়ে রেখে তৃণমূলের লোকজন যাদবপুর ক্যাম্পাসে পা দিয়ে দেখাক। আমরাও বুঝিয়ে দেব!"