
তবলাবাদক সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও খুনে অভিযুক্ত রাহুল
শেষ আপডেট: 29 November 2024 14:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বারবার ট্রেনের মধ্যে বিড়ি খেতে বারণ করছিলেন। তাই নাকি খুন হতে হয় বালির নিশ্চিন্দিপুরের বাসিন্দা তবলাবাদক সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে। গত মঙ্গলবারই তবলাবাদকের খুনি সন্দেহে গুজরাত থেকে গ্রেফতার করা হয় রাহুল ওরফে ভোলুকে। পুলিশ জানতে পেরেছে। রাহুল সিরিয়াল কিলার। এর আগেও বেশ কয়েকটি খুন করেছে সে। কিন্তু সামান্য বিড়ি খেতে বারণ করায় একজন যে খুন হয়ে যেতে পারেন এটা জেনে অবাক পুলিশও।
পুলিশ কর্তারা জানান, জেরায় ধৃত রাহুল জানিয়েছে, সে যখনই বিড়ি ধরাচ্ছিল তখনই বারণ করছিলেন তবলাবাদক। সেই রাগেই ওই ব্যক্তিকে খুন করে ফেলেছে সে। ২১ নভেম্বর ডাউন কাটিহার এক্সপ্রেসের প্রতিবন্ধী কামরা থেকে উদ্ধার হয় তবলাবাদক সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের রক্তাক্ত দেহ।
গত বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৭টা নাগাদ, যখন ডাউন কাটিহার এক্সপ্রেস হাওড়া স্টেশনে ঢোকে তখন ওই ট্রেনের পেছন দিকে প্রতিবন্ধীদের জন্য যে সংরক্ষিত কোচ থাকে, সেই কোচের বাঙ্ক থেকে চাদর চাপা দেওয়া অবস্থায় একটি দেহ উদ্ধার হয়। শরীরে ধারালো অস্ত্রের কোপ ছিল এবং রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। ট্রেনে তল্লাশি চালানোর সময় দেহটি নজরে আসে আরপিএফ কর্মীদের। প্রাথমিকভাবে মৃতের নাম পরিচয় কিছুই জানা যায়নি।
পরে জানা যায় মৃত ওই ব্যক্তির নাম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। পেশায় তবলাবাদক ওই ব্যক্তি বালির নিশ্চিন্দা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। প্রায়ই তিনি কাটিহার জেতেন তবলা শেখানোর জন্য। ১৮ নভেম্বর তিনি কাটিহার যান এবং ২০ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ কাটিহার থেকে ট্রেন ধরেন বাড়ি ফেরার জন্য। ২১ তারিখ তাঁর বাড়ি ফিরে আসার কথা। কিন্তু বাড়ি ফিরছেন না দেখে পরিবারের সদস্যরা একাধিক জায়গায় খোঁজ নেয়। শেষে হাওড়া জিআরপি-তে এসে সৌমিত্রবাবুর দেহ শনাক্ত করেন।
তবলা বাদকের সঙ্গে থাকা ফোন, টাকা ও নথি খোয়া গেছে বলে পরিবারের তরফ থেকে অভিযোগ জানানো হয়। অবশেষে তবলাবাদকের মোবাইল ফোনের সূত্রে খোঁজ মেলে অভিযুক্তের। গুজরাত থেকে গ্রেফতার করা হয় রাহুল ওরফে ভোলুকে। কী কারণে খুন তার নিয়ে ধন্দে ছিল পুলিশ। রাহুলের দাবিতে অবাক পুলিশও।