
শেষ আপডেট: 24 November 2023 13:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমডাঙায় তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। মুর্শিদাবাদের ডোমকলে অভিযান চালিয়ে আফতাব নামে ওই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। আফতাবের বাংলাদেশে পালানোর ছক ছিল বলে অনুমান পুলিশের। এর আগে পঞ্চায়েত প্রধান খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন আনোয়ার হোসেন মণ্ডল। দুইজনের নামই এফআইআরে ছিল বলে পুলিশ সূত্রের খবর।
জয়নগরে তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিন লস্করকে গুলি করে খুন নিয়ে যখন তোলপাড় রাজ্য, ঠিক তখনই দুষ্কৃতীদের ছোড়া বোমায় মৃত্যু হয় আমডাঙা পঞ্চায়েতের প্রধান রূপচাঁদ মণ্ডলের। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ আমডাঙা থানার কামদেবপুর বাজার এলাকায় আচমকাই বোমা পড়তে থাকে। সেসময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে গল্প করছিলেন রূপচাঁদ। গুরুতর জখম অবস্থায় প্রথমে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে বারাসতের নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আমডাঙা। তৃণমূলের কর্মীরা ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন।
ঘটনাটিতে পরিবারের দায়ের করা এফআইআরে আনোয়ার এবং আফতাব ছাড়াও তোয়েব আলি মণ্ডল, পাপ্পু নামের আরও দুই অভিযুক্তের নাম ছিল। তাঁরা এখনও অধরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর মুর্শিদাবাদে পালিয়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন আফতাব। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। বানচাল হয়ে তার বাংলাদেশ পালানোর ছক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আলমগীর ওরফে আফতার বোমা তৈরিতে দক্ষ। তার তৈরি বোমা দিয়েই আমডাঙার পঞ্চায়েত প্রধান রূপচাঁদ মণ্ডলের উপর হামলা চালানো হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে বারাসত আদালতে তোলা হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ঘটনার সময়ে অনেকক্ষণ ধরেই রূপচাঁদের গতিবিধির উপর নজর রাখছিলেন দুষ্কৃতীরা। এরপর রাস্তার এক প্রান্তে ফাঁকা জায়গায় দেখতে পেয়েই তাঁকে লক্ষ্য করে তারা বোমা ছোড়ে। পরে কামদেবপুর বাজারের ভিড়ে মিশে যায়। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পাল্টা রূপচাঁদের অনুগামীরাও বোমা মারতে শুরু করে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
যদিও পঞ্চায়েত প্রধান খুনের প্রকৃত কারণ কী, সেবিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। তৃণমূল নেতার সঙ্গে ধৃতদের রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল কিনা, তা জানার চেষ্টা চলছে।