
শেষ আপডেট: 16 August 2023 12:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরিয়ানার নুহ-র সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার (Haryana Case) অন্যতম মদতদাতা বিট্টু বজরঙ্গিকে (Bittu Bajrangi) বুধবার গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশ। মঙ্গলবার তাকে ফরিদাবাদের বাড়ি থেকে প্রথমে আটক করা হয়। বুধবার সরকারিভাবে গ্রেফতারির কথা জানিয়েছে পুলিশ।

হরিয়ানা পুলিশ জানিয়েছে ৩১ জুলাই নুহতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক হিংসা এবং তাতে ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনার (Haryana Case) পিছনে বিট্টু বজরঙ্গির যোগ আছে। ৩১ জুলাই প্রথমে নুহতে দাঙ্গার সূত্রপাত হয়। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে গুরুগ্রাম-সহ আশপাশের বহু এলাকায়। উত্তেজনা ছড়ায় লোগায়া রাজস্থানের কিছু এলাকাতেও। নিহতদের মধ্যে পুলিশের দু’জন হোমগার্ড আছেন।
পুলিশের বক্তব্য, বিট্টু বজরঙ্গি অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী। তবে কেন পনরো দিন সময় লাগল তাকে গ্রেফতার করতে তার সদুত্তর দিতে পারেনি পুলিশ। দাঙ্গার পর থেকেই জল্পনা চলছিল ‘প্রভাবশালী’ বিট্টু বজরঙ্গিকে পুলিশ ছুঁতে পারবে না। তাঁর সঙ্গে ক্ষমতাবান লোকজনের ওঠাবসা। অতীতে একাধিক ঘটনায় এই ব্যক্তিতে পুলিশ গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও গ্রেফতার করেনি।
নুহ ঘটনায় আর এক অন্যতম অভিযুক্ত মনু মানেসরকে পুলিশ এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি। তার বিরুদ্ধে দু’জন মুসলিম ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ আছে। সেই মামলাটি হয়েছে রাজস্থানে। মনু মানেসরও গো-রক্ষক হিসাবে হরিয়ানা এবং লোগায়ো রাজস্থানে পরিচিত।
গত ৩১ জুলাই নুহতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রা বের হয়। সেই শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক’দিন ধরেই নানা উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছিল। মনু মানেসরও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করে সে ৩১-এর শোভাযাত্রায় থাকবে। যদিও সে পলাতক বলে খাতায় কলমে হরিয়ানা পুলিশ দাবি করেছে। রাজস্থান পুলিশ বারে বারে মানেসরকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানালেও কাজের কাজ কিছু হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, বিট্টুর বিরুদ্ধে গোটা দশেক মামলা আগে থেকেই আছে। ৩১ তারিখ শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়ে পড়লে বিট্টু প্রকাশ্যে উস্কানি দেয় বলে পুলিশের অভিযোগ। এক পুলিশ কর্তাই এই ঘটনায় বিট্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বিট্ট বজরঙ্গির আসল নাম রাজকুমার। পেশায় একজন সবজি বিক্রেতা। তবে মুসলিম বহুল নুহতে সে হিন্দুদের পরিত্রাতা হিসাবেই পরিচিত। সাম্প্রদায়িক হিংসার একাধিক ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়েছে। ৩১ জুলাইয়ের শোভাযাত্রায় বিট্টু এবং মনু মানেসর থাকবে জানাজানি হতেই স্থানীয় মুসলিমদের একাংশ তাদের মহল্লা দিয়ে শোভাযাত্রা নিয়ে যেতে আপত্তি তোলেন। তা থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
আরও পড়ুন: যাদবপুর নিয়ে বাংলার বাবা-মায়েরা চিন্তিত, ওদিকে কোটায় মৃত্যু মিছিলও কিন্তু থামছে না