
বিনীত গোয়েল
শেষ আপডেট: 24 August 2024 22:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে শহর তথা রাজ্যজুড়ে এখনও আন্দোলন চলছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় মিটিং-মিছিল করছে রাজনৈতিক দলগুলি। শ্যামবাজার এলাকায় বিজেপি ধর্না কর্মসূচি করেছে, আরজি করের প্রতিবাদে মিছিলও বের করছিল সেখান থেকে। তবে ২৪ তারিখ পর্যন্ত ওই এলাকায় অনেক রাস্তা নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ। বলা হয়েছিল, ২৪ তারিখ পর্যন্ত ওই এলাকার অনেক অংশে জমায়েত করতে পারবে না কেউ। সেই নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা বাড়ানো হল।
পুলিশের তরফে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ২৫ তারিখ থেকে আগামী সাতদিন অর্থাৎ ৩১ অগস্ট পর্যন্ত শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ে মিটিং করা যাবে না। ওই এলাকায় ৫ বা তার বেশি লোকের জমায়েত হলেই নিয়ম ভাঙা হবে। সেক্ষেত্রে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলেই জানিয়ে দিয়েছে। এটাও জানান হয়েছে, কাউকে যদি লাঠি বা অন্য কোনও বিপজ্জনক জিনিস হাতে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় তবে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২২৩ ধারায় মামলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ।
এর আগে বিজেপির তরফ থেকে শ্যামবাজারে কর্মসূচি করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পুলিশের সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তি হয় এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়। এই ঘটনার পর তাপস রায়ের নেতৃত্বে শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ে নেতাজির মূর্তির সামনে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেছিল বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
ইতিমধ্যে আবার নবান্ন অভিযান নিয়ে কড়া ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে পুলিশ। একাধিক উচ্চপদস্থ অফিসারদের নাম উল্লেখ করে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কলকাতায় আসার জন্য। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এই অফিসাররা আগামী ২৬ অগস্ট, সোমবার বিকেল ৪টের মধ্যে কলকাতা পুলিশ কমিশনারের কাছে রিপোর্ট করবেন। হাওড়া শরৎ সদনে তাঁদের সকলকে নবান্ন অভিযানের দিনের ডিউটি বুঝিয়ে দেওয়া হবে। সেই মতোই তাঁদের কাজ করতে হবে। আর এই অভিযান শেষ হলেই তাঁরা নিজেদের পুরনো ডিউটিতে ফিরে যাবেন।
শিলিগুড়ি, ব্যারাকপুর, তমলুক, ঝাড়গ্রাম, বারুইপুর, বারাসত, রানাঘাট, বসিরহাট সহ একাধিক জেলা থেকে পুলিশ অফিসারদের ডেকে পাঠানো হয়েছে। এই নির্দেশিকায় এও উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে যে সমস্ত অফিসাররা আসবেন তাঁরা যেন নিজেদের সঙ্গে ঢাল, লাঠি, হেলমেট, বডি প্রটেক্টিভ গিয়ার, রেনকোট, ছাতা ইত্যাদি রাখেন। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, নবান্ন অভিযান নিয়ে কতটা তৎপর পুলিশ প্রশাসন।