শেষ আপডেট: 28 February 2020 12:02
মস্কোর পোলার বিয়ার বিশেষজ্ঞ ইলিয়া মর্ডভিন্টসেভ বলছেন, "পোলার বিয়ার শিকারি এবং মাংশাসী প্রাণী। কিন্তু নিজের সন্তানকে খেয়ে নেওয়ার এই ঘটনা বিরলের মধ্যে বিরলতম। যদিও আন্দাজ আমরা আগেই পেয়েছিলাম। পুরুষ পোলার বিয়ার খাবারের অভাবে স্ত্রী পোলার বিয়ারকে আক্রমণ করেছে, এমন ঘটনা কয়েক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। ছানা পোলার বিয়ারকেও আক্রমণ করছিল বড় পোলার বিয়ার। কিন্তু এই আক্রমণ যে স্বজাতির মাংস খাওয়ার জন্য, তা নিশ্চিত ছিলাম না আমরা।"
সাধারণত সমুদ্রের বরফে ভেসে ভেসে শিকার করে মেরুভল্লুক। তাদের প্রধান খাদ্য হল শিলমাছের মাংস। কিন্তু গত কয়েক বছরে হু হু করে গলছে মেরুপ্রদেশের বরফ। আর্কটিক সমুদ্রের বরফের পরিমাণও কমছে, ফলে ক্রমেই তীরের দিকে ঘেঁষে আসছে মেরুভল্লুকদের গতিবিধি। বরফের অভাবে প্রজনন কমে গেছে শিলমাছেদেরও। এই অবস্থায় চরম খাদ্যসঙ্কটে তারা।
শুধু তাই নয়। সম্প্রতি মেরুভল্লুকদের মধ্যে প্রবণতা দেখা গেছে, শিকার করে বরফের নীচে মাংস লুকিয়ে রাখছে তারা। সাধারণ ভালুকের মধ্যে এই খাবার জমিয়ে রাখার প্রবণতা থাকলেও, মেরুভল্লুকদের মধ্যে কখনওই ছিল না। কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজেদের স্বভাবও পাল্টে ফেলেছে তারা। এই সবটাই গোটা প্রজাতির পক্ষে অশনিসঙ্কেত বলে মনে করছেন সকলে।
কয়েক মাস আগে সুমেরু মহাসাগর থেকে দেড় হাজার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে রাশিয়ার উত্তরে সাইবেরিয়ার একটি শহরে খাবারের জন্যে হন্যে হয়ে ঘুরতে দেখা গিয়েছিল ক্লান্ত মেরু ভল্লুককে। সে কাদা মাখা, জীর্ণ শরীরেরই খাবার খুঁজে চলেছে সব জায়গায়। কখনও আবার ভীষণ ক্লান্ত হয়ে সে মাঝ রাস্তায় শুয়েও পড়ছে। তার চোখে জল।
বছর দুয়েক আগে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলের করা একটি ভিডিওচিত্রে দেখা গিয়েছে, কানাডার বাফিন দ্বীপে কী ভাবে না খেতে পেয়ে তিলে তিলে মারা যাচ্ছে একটি মেরু ভালুক।
দেখুন সেই ভিডিও।
https://www.youtube.com/watch?v=_JhaVNJb3ag&feature=youtu.be
ইদানীং জলবায়ুর পরিবর্তনে ফলে দ্রুত বদলে যাচ্ছে পরিবেশ। সারা পৃথিবী জুড়ে দাবি উঠেছে সচেতনতা তথা পরিবেশ রক্ষার। বিপন্ন থেকে বিপন্নতর হয়ে উঠেছে মনুষ্যেতর জীবজগৎ। উষ্ণায়নের জন্যই এই শ্বেতভল্লুকরা তাদের বাসস্থান হারাচ্ছে, খাবার পাচ্ছে না। প্রকৃতি সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক একটি সংস্থা জানাচ্ছে বিশ্বব্যাপী আপাতত ২২ হাজার থেকে ৩১ হাজার মেরু ভল্লুক রয়েছে। মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভে বলছে যে হারে বরফ গলে যাচ্ছে মেরু প্রদেশে, ওরা সঙ্কটে পড়ছে, ২০৫০ এ হয় তো এই মেরুভল্লুক আর থাকবে না বিশ্বে।