
শেষ আপডেট: 27 May 2023 08:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এপ্রিল মাসের কথা। ন্যাশানাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং বা এনসিইআরটি জানায়, তাদের দ্বাদশ শ্রেণির বই থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে গোটা মুঘল সাম্রাজ্যই! সেই নিয়ে হইচই পড়ে যায় দেশজুড়ে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একটি 'বিতর্কিত' সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে মোদী সরকার! দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (Delhi University) অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল শুক্রবার জানায়, স্নাতক স্তরের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ্যক্রম থেকে বাদ পড়তে চলেছে উর্দু কবি মহম্মদ ইকবালের জীবনী (Poet Muhammad Iqbal Biography dropped from DU syllabus)।
প্রজাতন্ত্র দিবস হোক বা স্বাধীনতা দিবস, পাড়ায় পাড়ায় যেসব দেশাত্মবোধক গান বাজে, সেই তালিকায় অবশ্যই থাকে 'সারে জঁহা সে অচ্ছা, হিন্দুস্থাঁ হামারা…' (Saare Jahan Se Achha)। আর এই গান উঠে এসেছিল কবি ইকবালের কলমেই। ফলে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রম থেকে ইকবালের জীবনী বাদ পড়ায় নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিল, তা বলাই বাহুল্য।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের স্নাতক স্তরে ষষ্ঠ পেপারে 'মডার্ন ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল থট' শিরোনামের অধ্যায়টিতে রয়েছে কবির প্রসঙ্গ। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে ঠিক হয় ইকবালের জীবনী আর পড়ানো হবে না ছাত্র-ছাত্রীদের।
বোর্ডের এক সদস্য সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, 'পাকিস্তানের দার্শনিক পিতা বলা হয় ইকবালকে। ভারত ভাগের ক্ষেত্রে ইকবালেরও ভূমিকা ছিল। সেই কারণেই ইকবালের জীবনী বাদ দেওয়ার প্রস্তাব আনা হয়। শুক্রবারের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এর পর সেটি পাঠানো হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের কাছে। আগামী ৯ জুন এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
১৮৭৭ সালে অবিভক্ত ভারতের শিয়ালকোটে (অধুনা পাকিস্তান) জন্মগ্রহণ করেন এই উর্দু কবি। ভারত ভাগের পরেও দুই দেশেই ইকবালের কদর ছিল। তাঁর সাহিত্যচর্চা মূলত উর্দু ভাষা হলেও ফরাসি ভাষাতেও রয়েছে কবির অসামান্য কিছু সৃষ্টি। তিনি কুড়িয়েছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রশংসাও। ১৯৩৮ সালে মৃত্যু হয় তাঁর। পাক সরকার তাঁকে দিয়েছিল জাতীয় কবির মর্যাদা। তেমন এক কবির জীবনী বাদ পড়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তাই মোদী সরকারের দিকে আঙুল তুলছেন অনেকেই। বিরোধীদের অভিযোগ, সংখ্যালঘু কবি বলেই হয়তো মহম্মদ ইকবালের জীবনী বাদ দিতে চলেছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়। দেশে হিন্দুত্ববাদের ধব্জা ওড়াতে চাইছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।
নতুন সংসদ ভবন কোন রাজ্যের কী কী দিয়ে নির্মিত? দেখে নিন এক নজরে