দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাফায়েল নিয়ে বিরোধীরা সমালোচনা শুরু করার পরে এখনও পর্যন্ত দু’টি বিষয় প্রমাণ করতে চেয়েছে মোদী সরকার। প্রথমত, কংগ্রেস আমলে রাফায়েল নিয়ে যে চুক্তির কথা হয়েছিল, এনডিএ সরকারের চুক্তি তার চেয়ে বেশি লাভজনক। দ্বিতীয়ত, নতুন চুক্তির ফলে ভারত আরও দ্রুত ওই যুদ্ধবিমান পেতে চলেছে। কিন্তু একটি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টে জানা যায়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে যারা ওই চুক্তি নিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছিলেন, তাঁদের অন্তত তিনজন এমন মনে করেননি। তাঁরা ওই চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
ভারতের তরফে সাত জনের একটি প্রতিনিধিদল ওই চুক্তি নিয়ে ফ্রান্সের দাসো কোম্পানির সঙ্গে রফা করে। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁদের এক বড় অংশই মনে করেছিলেন, আরও সুবিধাজনক শর্তে ওই চুক্তি করা যেত।
গত কয়েকদিনে রাফায়েল নিয়ে এমন কয়েকটি তথ্য প্রকাশ পেয়েছে, যাতে অস্বস্তিতে পড়েছে সরকার। অন্যদিকে বিরোধীরা নতুন অস্ত্র পেয়েছে হাতে। গত সোমবারই জানা যায়, রাফায়েল চুক্তি হওয়ার আগে প্রতিরক্ষার সরঞ্জাম কেনা সংক্রান্ত বিধির দুর্নীতিবিরোধী ধারাগুলি লঘু করে দেওয়া হয়েছিল। পরে জানা যায়, রাফায়েল চুক্তির আগে প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে না জানিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছিল। তাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক আপত্তি করে। একটি সূত্র থেকে শোনা যায়, রাফায়েল চুক্তি হওয়ার আগেই নাকি শিল্পপতি অনিল অম্বানি এসম্পর্কে সব জেনে ফেলেছিলেন।
রাফায়েল নিয়ে প্রকাশিত সর্বশেষ রিপোর্টে জানা যায়, ভারতীয় প্রতিনিধি দলের তিন প্রতিনিধি, এম পি সিং, এ আর সুলে এবং রাজীব বর্মা চুক্তি নিয়ে আপত্তি করেছিলেন। চুক্তি সই হওয়ার তিন মাস আগে, ২০১৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁরা একটি আটপাতার নোট জমা দেন। তাতে লেখা হয়েছিল, নতুন রাফায়েল চুক্তিতে ফ্রান্স সরকার ৭৮৭ কোটি ইউরো দাম ধার্য করেছে। এই দাম যে ন্যায্য, তা প্রমাণিত নয়। ওই ধরনের যুদ্ধ বিমানের অত দাম হয় না।
ভারত ফ্রান্সের দাসো কোম্পানি থেকে মোট ৩৬ টি রাফায়েল যুদ্ধ বিমান কিনছে। তার মধ্যে প্রথমে ডেলিভারি দেওয়া হবে ১৮ টি বিমান। তিন প্রতিনিধি লিখেছিলেন, ফ্রান্স আগে যত তাড়াতাড়ি ওই বিমান দেবে বলেছিল, এখন তা দিচ্ছে না।
সংবাদ মাধ্যমে ওই রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পরেই সরব হন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি টুইটারে লেখেন, এতদিন সরকার সুপ্রিম কোর্ট ও সংসদে যে দাবি করে এসেছে, তা এবার মিথ্যা প্রমাণিত হল।
https://twitter.com/RahulGandhi/status/1095544590973714432