দ্য ওয়াল ব্যুরো : যে পুরুষরা সিঙ্গল পেরেন্ট, অর্থাৎ যাঁদের স্ত্রী নেই, একাই সন্তানকে মানুষ করেন, তাঁদের বছর শেষে সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবার থেকে তাঁরাও মোট চাকরি জীবনের ৭৩০ দিন চাইল্ড কেয়ার লিভ অর্থাৎ সন্তান পালনের জন্য ছুটি পাবেন। সরকারি কর্মী হলেই ওই সুবিধা পাওয়া যাবে। এখনও পর্যন্ত কেবল মহিলারা ওই সুযোগ পেয়ে থাকেন। মোদী সেই সুযোগ দিচ্ছেন সিঙ্গল পেরেন্ট পুরুষদেরও।
মহিলা সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নিয়ম হল, যাঁরা সিঙ্গল পেরেন্ট, তাঁরা পুরো চাকরি জীবনের ৭৩০ দিন চাইল্ড কেয়ার লিভ পান। তবে তাঁদের দু’টি সন্তানের জন্মের ব্যবধান তিন বছর হতে হয়। দু’টি সন্তানের ক্ষেত্রেই তাঁরা ওই সবিধা পান।
সিঙ্গল পেরেন্ট পুরুষের সংজ্ঞা দিয়ে সরকার বলেছে, তিনি অববাহিত, বিপত্নীক অথবা ডিভোর্সি। একাই সন্তানকে মানুষ করেন। ডিপার্টমেন্ট অব পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং থেকে বলা হয়েছে, সরকারি অফিস কর্তৃপক্ষ এখন থেকে সিঙ্গল পেরেন্ট পুরুষ বা মহিলাদের সন্তান পালনের জন্য ৭৩০ দিন ছুটি দেবেন। প্রথম দুই জীবিত সন্তানের জন্য তাঁরা এই সুবিধা পাবেন। সন্তানের নানা প্রয়োজনে, তার অসুস্থতায় এবং শিক্ষার প্রয়োজনে ছুটি নেওয়া যাবে।
পুরুষদের ছুটি দেওয়ার কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, আমরা মনে করি, কোনও পুরুষ সরকারি কর্মী যদি একা সন্তানকে মানুষ করেন, তাহলে তাঁকেই ছেলে অথবা মেয়েকে মানুষ করার পুরো দায়িত্ব নিতে হয়। সেজন্য সিঙ্গল পেরেন্ট পুরুষদেরও ওই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
এর ফলে সিঙ্গল পেরেন্ট পুরুষরা যথেষ্ট সুবিধা পাবেন। এখন সমাজে ডিভোর্সের সংখ্যা বাড়ছে। আগে এমন ক্ষেত্রে সন্তানকে সাধারণত মায়ের কাছে রাখার নির্দেশ দিতেন বিচারকরা। কিন্তু এখন অনেক সময় বাবার কাছেও রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। সিঙ্গল পেরেন্ট পুরুষরা বলেন, মা না থাকলে সন্তানকে মানুষ করা আরও বেশি শক্ত। নতুন বছরে সরকার চাইল্ড কেয়ার লিভ দিতে রাজি হওয়ায় তাঁরা বলছেন, এতদিনে ন্যায়বিচার হল। শুধু সিঙ্গল পেরেন্ট পুরুষের প্রতি নয়, তাঁদের সন্তানদের প্রতিও সুবিচার করা হল। কারণ বাবা বাড়ি থাকলে তাদেরও ঠিকমতো যত্ন হবে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, নতুন নিয়ম করে সরকার মেনে নিল শিশুকে মানুষ করা কেবলমাত্র মায়ের কর্তব্য নয়। আধুনিক যুগে বাবারাও সমানভাবে সন্তান পালনের দায়িত্ব নেবেন।