
শেষ আপডেট: 30 March 2022 03:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন অনেকটা নুন ছাড়া মাংস কিংবা চিনি ছাড়া পায়েস রান্না করার মতন। মঙ্গলবার রাতে দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে মতুয়া ধর্ম মহামেলার সম্মেলনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi)। ঠাকুরনগরের সমাবেশে জায়েন্ট স্ক্রিনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শোনানোর ব্যবস্থা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: রামপুরহাটের ভাদু শেখ খুনে তিন জন গ্রেফতার, তৎপর বীরভূম পুলিশ
মতুয়া মহা সম্মেলনের মতো আঞ্চলিক পরবে প্রধানমন্ত্রীর মতো মানুষের যোগদান থেকে বোঝা যায় তিনি এই সম্প্রদায়কে কতটা গুরুত্ব দেন। ভাষণেও ঘুরে ফিরে এসেছে সে কথা।
কিন্তু মন ভরেনি উপস্থিত জনতার। কারণ তারা প্রত্যাশা করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী অন্তত একবারের জন্যও হলেও নাগরিকত্ব সশোধনী আইনের বিষয়টি তুলবেন এবং জানাবেন কবে নাগাদ নাগরিকত্বের জন্য দরখাস্ত জমা নেওয়া হবে।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তা নিয়ে উচ্চবাচ্য করেননি। অথচ এক বছরও হয়নি, বিধানসভা ভোটে বিজেপি নেতারা ওই আইন বাস্তবায়নের কথা বলে ভোট চেয়েছেন। তার আগে লোকসভা ভোটে শান্তনু ঠাকুরের প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল সিএএ। প্রধানমন্ত্রী ভাষণে সেই প্রসঙ্গ না আনায় শান্তনু বলেন, সিএএ হবেই। আইন তৈরি। বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে।
প্রধানমন্ত্রী ভাষণে বগটুই শব্দটি উচ্চারণ না করেও পরোক্ষে নিজের মনবেদনার কথা শুনিয়ে রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, হিংসা বন্ধ হোক। দুর্নীতির প্রতিবাদ করতে বল জুগিয়েছেন ভাষণে। তাঁর কথায়, দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গড়তে হবে। এমনকী এনেছেন ভোকাল ফর লোকালের প্রসঙ্গ। দুদিন আগেই মন কি বাত অনুষ্ঠানে এ নিয়ে সরব হন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সিএএ নিয়ে মুখ খোলেননি।
প্রধানমন্ত্রী ভাষণে অনেকটা সময় ব্যয় করেন মতুয়া সমাজের সংস্কারক হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুরের অবদান নিয়ে। বলেন, অনেক বছর আগেই তাঁরা প্রান্তিক মানুষ ও মহিলাদের স্বার্থ নিয়ে সরব হন।
মোদীর এই ভাষণের আয়োজন করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। তাঁর আর্জি মেনে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শুধু রাত ন 'টায় ভাষণ দিয়েছেন, তাই -ই নয়, বক্তৃতার সময়ও বদল করেছেন। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল বিকাল সাড়ে চারটায়। মতুয়া ভক্তরা আর্জি জানান, প্রধানমন্ত্রী যেন রাত ন ' টায় ভাষণ শুরু করেন। কারণ ওই সময় শুরু মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী। পঞ্জিকা মতে, চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশীকে মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী বলা হয়। শাস্ত্রে চৈত্র মাসকে মধুমাস গণ্য করা হয়ে থাকে।
চৈত্র বা মধু মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশীতে শতভিষা নক্ষত্রের যোগ হলে তখন বারুণীযোগ উপস্থিত হয়। শতভিষা নক্ষত্রের আরেক নাম বরুণ। তাই শতভিষা নক্ষত্র তথা বরুণ নক্ষত্রের প্রাধান্য বিধায় বরুণ নক্ষত্রের নামানুসারে এ যোগকে বারুণীযোগও বলা হয়। তিথি, নক্ষত্র, যোগ ও বারের যোগাযোগের ভিত্তিতে এ যোগটি বারুণী, মহাবারুণী ও মহামহাবারুণী বলে খ্যাত। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনতে প্রচুর মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। কিন্তু সব থেকেও ছিল না সিএএ। ফলে অনেকেই হতাশ।