দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিতর্কিত ধর্ম প্রচারক জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সন্ত্রাসবাদে উস্কানি দেন। সেই সঙ্গে টাকাও তছরুপ করেন। তিনি কয়েক বছর আগে ভারত থেকে চলে গিয়েছেন মালয়েশিয়ায়। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মহাথির মহম্মদকে অনুরোধ করলেন, জাকির নায়েককে বন্দি করে ভারতে ফেরত পাঠান। মহাথির কোনও আশ্বাস দিয়েছেন কিনা, তা অবশ্য জানা যায়নি।
ইস্টার্ন ইকনমিক সামিটে যোগ দেওয়ার জন্য বুধবার রাশিয়ার ব্লাডিভোস্টক শহরে পৌঁছেছেন মোদী। সেখানেই তাঁর সঙ্গে মহাথিরের দেখা হয়। বিদেশ সচিব বিজয় গোখলে জানিয়েছেন, মোদী ও মহাথির স্থির করেছেন, পরস্পরের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরে মোদী এই নিয়ে দু’বার মহাথিরের সঙ্গে দেখা করলেন। প্রথমবার দেখা করেছিলেন মে মাসে। বৃহস্পতিবার সকালে মোদী জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গেও বৈঠক করেন। ভারত ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেন, মহাথিরের সঙ্গে ভারত ও মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন মোদী। পর্যবেক্ষকদের মতে, মোদী নিজে যেভাবে জাকির নায়েককে বন্দি করে ভারতে পাঠাতে বলছেন, তাতে বোঝা যায়, সরকার বিতর্কিত ধর্ম প্রচারককে হাতে পাওয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। অভিযোগ, তিনি ভাষণ দিয়ে ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টা করেন। দীর্ঘদিন তিনি আইনরক্ষকদের নজরে ছিলেন। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় জঙ্গি হানা হয়। ধৃত সন্ত্রাসবাদীরা বলে, জাকির নায়েকের ভাষণ শুনে তারা উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। এর পরেই ধর্মপ্রচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়।
জাকির তখন মালয়েশিয়ায় চলে যান। সেখানে তাঁকে স্থায়ীভাবে বসবাস করার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু বছর খানেকের মধ্যে মালয়েশিয়া সরকার তাঁর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। গত মাসেই মহাথির মালয়েশিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা বেরনামাকে বলেন, জাকির নায়েককে ভারতে পাঠানোর প্রশ্নই নেই। কারণ তিনি আশঙ্কা করছেন, ভারতে গেলে তাঁর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।