দ্য ওয়াল ব্যুরো : লোকসভা ভোটে বিপুল জয়ের পর শুক্রবার বৈঠকে বসল এনডিএ মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিসভার সদস্যরা ষোড়শ লোকসভা ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করলেন রাষ্ট্রপতির কাছে। পরে মন্ত্রিপরিষদের একটি বৈঠকে সব মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ইস্তফা দিলেন। এদিন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে ইস্তফা দিয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি একইসঙ্গে অন্যান্য মন্ত্রীরও ইস্তফাপত্র জমা দেন। রাষ্ট্রপতি মোদীকে পরবর্তী মন্ত্রিসভা গঠন না হওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন।
https://twitter.com/rashtrapatibhvn/status/1131915419277594625
https://twitter.com/narendramodi/status/1131932778948202496
মোদী সম্ভবত শপথ নেবেন ৩০ মে। তার আগে শনিবার বিকাল সাড়ে চারটেয় সংসদের সেন্ট্রাল হলে বৈঠকে বসবেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। সেখানেই মোদীকে এনডিএ-র নেতা হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। ২০১৪ সালে মোদী শপথ নিয়েছিলেন ২৬ মে। তাঁর মন্ত্রিপরিষদে ছিলেন ৬০ জন সদস্য। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও স্বাধীন দফতরের ভারপ্রাপ্ত কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী।
সপ্তদশ লোকসভা গঠিত হবে ৩ জুনের মধ্যে। তার আগে নির্বাচন কমিশনাররা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে নব নির্বাচিত সাংসদদের তালিকা দিয়ে আসবেন।
সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে মোদীর নেতৃত্বে বিপুলভাবে জয়ী হয়েছে এনডিএ। লোকসভার যে ৫৪২ আসনে ভোট হয়েছিল, তার মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ওই জোট পেয়েছে ৩৪৯ টি আসন। গরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ছিল ২৭২ টি আসন। এনডিএ সেই ম্যাজিক ফিগারের চেয়ে অনেকগুলি বেশি আসন পেয়েছে।
১৯৭১ সালের পরে এই প্রথমবার কোনও প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয়বার নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচিত হলেন। এদিন মোদী সকালে বিজেপির দুই মার্গদর্শক লালকৃষ্ণ আডবানী ও মুরলি মনোহর যোশীর বাড়িতে যান। ভোটের আগে শোনা গিয়েছিল, প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়ায় দুই প্রবীণ নেতাই অসন্তুষ্ট হয়েছেন। কিন্তু এদিন তাঁরা মোদীকে আশীর্বাদ করেন।
এবার বিজেপি একাই পেয়েছে ৩০৩ টি আসন। অর্থাৎ একার শক্তিতেই সরকার গড়ার ক্ষমতা অর্জন করেছে গেরুয়া ব্রিগেড। রাজস্থান থেকে উত্তর-পূর্ব ভারত, জম্মু-কাশ্মীর থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ, সর্বত্র ভালো ফল করেছেন বিজেপি প্রার্থীরা। বিপরীতে ভরাডুবি হয়েছে কংগ্রেসের। দেশের প্রাচীনতম দলটি এবার পেয়েছে মাত্র ৫২ টি আসন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, মোদীর ক্যারিশমাতেই বিপুল জয় হয়েছে এনডিএ-র। লোকসভায় বিপুল গরিষ্ঠতা পাওয়ার পরে কঠিন কয়েকটি দায়িত্বপালন করতে হবে মোদীকে। বিদেশনীতি নিয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাঁকে। এছাড়া জম্মু-কাশ্মীর নিয়েও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ করতে হবে।