দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, রীতিমতো পরিবার তুলে আক্রমণ। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক জনসভায় বলেছিলেন, শরদ পাওয়ার নিজে ভালো মানুষ। কিন্তু তাঁর ভাইপোরা বড় অবাধ্য। তার জবাব দিয়ে বুধবার এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার বললেন, মোদীর পরিবারে আছেটা কে? তিনি কী করে বুঝবেন, কীভাবে পরিবারকে পরিচালনা করতে হয়? তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ডেরেক ওব্রায়েন এদিন শরদের কথাগুলি টুইট করেছেন। তার সঙ্গে নিজের মন্তব্য জুড়ে দিয়েছেন, আঙ্কেল শরদ পাওয়ার, পাঞ্চেস।
https://twitter.com/derekobrienmp/status/1118436943358939136
কিছুদিন আগে শোনা গিয়েছিল, শরদের পরে এনসিপিতে কে নেতা হবেন, তা নিয়ে তাঁদের পরিবারে বিবাদ শুরু হয়েছে। সপ্তাহখানেক আগে মহারাষ্ট্রের জালনায় এক জনসভায় পরোক্ষে সেই বিবাদের কথা তুলে পাওয়ারকে খোঁচা দেন মোদী। তিনি বলেন, পাওয়ার সাহেব ভালো মানুষ। কিন্তু তাঁর পরিবারে অনেক সমস্যা আছে। তাঁর ভাইপোরা একেবারে হাতের বাইরে চলে গিয়েছে।
বুধবার পাওয়ার বলেন, আমি ভেবেছিলাম, প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করব, আমার পরিবারে কী হচ্ছে না হচ্ছে তাতে আপনি নাক গলাচ্ছেন কেন? পরে ভেবে দেখলাম, আমার তো স্ত্রী আছেন। মেয়ে, জামাই, ভাইপোরাও আছে। তারা আমাকে দেখতে আসে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কেউ নেই।
এরপর পাওয়ার প্রশ্ন তোলেন, মোদী কী করে জানবেন কীভাবে একটা পরিবারকে চালাতে হয়? তাঁর তো নিজের পরিবার নেই। সেজন্য তিনি অন্যের পারিবারিক ব্যাপারে নাক গলান।
এর আগেও ভোটের প্রচারে এসে পাওয়ারের নাম করেছেন মোদী। গত মাসে ওয়ার্ধায় এক জনসভায় তিনি বলেন, একসময় শরদ পাওয়ারও ভাবতেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন। তিনি প্রথমে ঘোষণা করেছিলেন, ভোটে লড়বেন। পরে হঠাৎ জানালেন, রাজ্যসভার সদস্য হয়েই ভালো আছেন। কারণ তিনি জানেন, হাওয়া কোনদিকে বইছে।
এরপরে শরদের পারিবারিক বিবাদের কথা তুলে মোদী বলেন, এনসিপি দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পাওয়ার। কিন্তু ধীরে ধীরে তাঁর ভাইপো পার্টিটা দখল করে নিচ্ছেন। পাওয়ারের পরিবারে এখন গোলমাল চলছে। কাকে টিকিট দেওয়া হবে, তা নিয়ে দ্বন্দ্ব উঠেছে চরমে।
পাওয়ার একসময় কংগ্রেস সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন। ২০১২ সালে তিনি নির্বাচনী রাজনীতি থেকে অবসর নেন। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে সকলকে অবাক করে ঘোষণা করেন, এবার ভোটে লড়তে চান। ৭৮ বছরের পাওয়ার মহারাষ্ট্রের দক্ষিণ পশ্চিমে মাধা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে শোনা গিয়েছিল। পরে তিনি নির্বাচনে লড়াই করার ইচ্ছা ত্যাগ করেন। তখন পাওয়ার বলেছিলেন, আমার পরিবারে দু’জন ভোটে লড়ছেন। আমি ভেবে দেখলাম, আর দাঁড়াব না। অতীতে আমি ১৪ বার নির্বাচনে লড়াই করেছি।