ইমরানের হুঁশিয়ারি: আবারও পুলওয়ামা হবে, ফের দায়ী করা হবে পাকিস্তানকে, ফল ভাল হবে না কিন্তু
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর দেশ পাকিস্তান যে সন্ত্রাসবাদের আঁতুরঘড় তা শুধু ভারত বলে না, আন্তর্জাতিক কূটনীতিক ও পর্যবেক্ষকদেরও তাই মত।
কিন্তু কাশ্মীর প্রশ্নকে সামনে রেখে শুক্রবার তাঁর রাষ্ট্রপুঞ্জের বক্তৃতার মধ্যে দিয়ে ইমরান যেন গোটা বিশ্বের সহা
শেষ আপডেট: 26 September 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর দেশ পাকিস্তান যে সন্ত্রাসবাদের আঁতুরঘড় তা শুধু ভারত বলে না, আন্তর্জাতিক কূটনীতিক ও পর্যবেক্ষকদেরও তাই মত।
কিন্তু কাশ্মীর প্রশ্নকে সামনে রেখে শুক্রবার তাঁর রাষ্ট্রপুঞ্জের বক্তৃতার মধ্যে দিয়ে ইমরান যেন গোটা বিশ্বের সহানুভূতি কুড়োনোর মরিয়া চেষ্টা করলেন। সে জন্য কখনও বললেন, ইসলামিক সন্ত্রাস বলতে কিছু হয় না, সামাজিক অবিচার উগ্রপন্থার জন্ম দেয়। কখনও আবার হুঁশিয়ার করতে চাইলেন গোটা বিশ্বকে। বললেন, ভারতের অ্যাজেন্ডা পরিষ্কার। কাশ্মীরে ওরা যে ভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, তাতে উপত্যকার কোনও যুবক ফের পুলওয়ামার মতো ঘটনা ঘটাতে পারে। তখন ভারত ফের দায়ী করতে পারে পাকিস্তানকে। উপ মহাদেশের দু'টি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে শুরু হয়ে যেতে পারে যুদ্ধ।
এখানেই থামেননি ইমরান। বরং রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেন, ভারত পাকিস্তানের তুলনায় আয়তনে সাত গুণ বড়। একটা বড় দেশ যখন একটা ছোট দেশের উপর আক্রমণ শানায় তখন কী পরিণতি হতে পারে। হয় ছোট দেশ আত্মসমর্পণ করবে, নইলে নিজে শেষ হলেও ধড়ে প্রাণ থাকতে লড়াই চালিয়ে যাবে। আমার বিবেকও তাই বলে। আর যখন পরমাণু শক্তিধর একটা ছোট দেশ জীবন পণ রেখে যুদ্ধ করবে তার ফল ভুগতে হতে পারে গোটা বিশ্বকে।
কাশ্মীর বিতর্ককে ইমরান যে এই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন সেই আশঙ্কা ভারতীয় কূটনীতিকরা আগেই করেছিলেন। ইমরানের আগেই এ দিন রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে বক্তৃতা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি তাঁর নাতিদীর্ঘ বক্তৃতায় তাই কৌশলেই তুলে ধরেছিলেন ভারতের সনাতন দর্শনকে। মোদী বলেন, “যুদ্ধ নয়, বুদ্ধ দিয়েছি আমরা। সন্ত্রাসবাদ রুখে দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই ভারতের বৃহত্তর লক্ষ্য”।
মোদীর তুলনায় ইমরানের বক্তৃতা ছিল এদিন অনেকটাই দীর্ঘ। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে সাধারণ পরিষদের সভায় বক্তৃতা দেন তিনি। উষ্ণায়ণের প্রসঙ্গ থেকে বলতে শুরু করে ক্রমে মুসলিম মৌলবাদের প্রসঙ্গে আসেন তিনি। সব শেষে টেনে আনেন কাশ্মীর প্রসঙ্গ। দুই বিবাদমান রাষ্ট্রের মধ্যে সমূহ সংঘাতের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, কাশ্মীরে ৯০ লক্ষ সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। তার পর বলছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নাকি পাঁচশ প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসবাদী অপেক্ষা করছে ভারতে ঢোকার জন্য। কিন্তু পাকিস্তান কি জানে না যে একজন সন্ত্রাসবাদী ভারতে ঢুকলে সেটাকেই হাতিয়ার করবে নয়াদিল্লি। তার পর পাকিস্তানের উপর হামলা চালাবে। তারা বলবে, ইসলামিক সন্ত্রাসকে রুখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হল। অমনি বিশ্বের সব শক্তিধর দেশ তা মেনে নেবে। কারণ, ভারতে তো ১২০ কোটি মানুষের বাজার রয়েছে। তাই সব মেনে নেবে ওরা।
এ সব কথা বলার পর রাষ্ট্রপুঞ্জের সভাপতির উদ্দেশে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সমস্ত কারণেই ইসলামাবাদের আবেদন, এই সংঘাত আপনারাই ঠেকাতে পারেন। নইলে রাষ্ট্রপুঞ্জের অস্তিত্বই তো অর্থহীন হয়ে পড়বে।
পাক প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তৃতা শেষ হতেই ভারতীয় কূটনীতিকরা বলেন, যুদ্ধ করার মুরোদ যে ইসলামাবাদের নেই ইমরানের কথাতেই তা পরিষ্কার। তাই রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি কান্নাকাটি করেছেন যাতে কাশ্মীর প্রশ্নে রাষ্ট্রপুঞ্জ হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু নয়াদিল্লি তা হতে দেবে না। কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ ব্যাপারে কারও নাক গলানোর অধিকার নেই।
আরও পড়ুন
https://www.four.suk.1wp.in/pm-modi-called-on-the-global-community-to-unite-against-terrorism/