দ্য ওয়াল ব্যুরো : আগামী সোমবার বিশ্ব যোগ দিবস উপলক্ষে লোকসভার সাংসদদের জন্য চারটি অনলাইন সেশনের আয়োজন করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি সেশনে বক্তব্য পেশ করবেন বিজেপির সাংসদ প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর। তিনি একসময় মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসের প্রশংসা করেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি ক্ষমা চান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কখনও প্রজ্ঞাকে ক্ষমা করতে পারবেন না। সেই প্রজ্ঞা বিশ্ব যোগ দিবসের সেশনে বক্তব্য পেশ করবেন শুনে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস।
বৃহস্পতিবারই বিশ্ব যোগ দিবসের চারটি সেশন সম্পর্কে সাংসদদের বিস্তারিত জানানো হয়। তার পরেই কংগ্রেস নেতারা বলেন, মোদী ওই বিতর্কিত সাংসদ সম্পর্কে নিজের মনোভাব পরিবর্তন করেছেন। কংগ্রেস সাংসদ মানিকরাম ঠাকুর টুইট করে বলেন, "প্রজ্ঞা ঠাকুর সম্পর্কে মোদী সাহেবের মনোভাব কি পরিবর্তিত হয়েছে? প্রধানমন্ত্রীর খুব পছন্দের একটি অনুষ্ঠানে প্রজ্ঞা হয়েছেন প্রধান অতিথি। বোঝাই যাচ্ছে, মোদী তাঁকে মন কি মাফ করে দিয়েছেন।" পরোক্ষে মোদীর 'মন কি বাত' অনুষ্ঠানের কথা তুলে তাঁকে কটাক্ষ করেন ওই কংগ্রেস এমপি।
গত লোকসভা নির্বাচনে প্রজ্ঞা ভোপাল লোকসভা আসন থেকে জয়লাভ করেন। তিনি বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংকে পরাস্ত করেছিলেন। সাংসদ হওয়ার পরে প্রজ্ঞা কয়েকটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন। গডসেকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার পরে তাঁকে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত একটি সংসদীয় প্যানেল থেকে বাদ দেওয়া হয়। এছাড়া বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠকেও তাঁকে আর আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
২২০৮ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত প্রজ্ঞা এখন জামিনে মুক্ত রয়েছেন। মহারাষ্ট্রের মালেগাঁওতে একটি মসজিদের কাছে মোটরসাইকেলে বিস্ফোরক রাখা হয়েছিল। ওই বিস্ফোরণে ছ'জন মারা যান। আহত হন ১০০ জনের বেশি।
গত ডিসেম্বরে পশ্চিমবঙ্গের ডায়মন্ডহারবারে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে হামলার মুখে পড়েন বিজেপির সভাপতি জে পি নড্ডা। তাঁর কনভয়ের ওপরে হামলা চালানো হয়। বিজেপির একাধিক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের নেতার গাড়ি ভাঙচুর হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছিলেন, এই হামলা পরিকল্পিত নয় তো? নড্ডার কনভয়ে হামলা নিয়ে মুখ খোলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তিনি বলেন, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হয়ে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন, তা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না।
এরপরে প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর মন্তব্য করেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝেছেন, এটা পাকিস্তান নয়, ভারত। হিন্দুরা ভারতকে রক্ষা করতে তৈরি। তারা মমতাকে উপযুক্ত জবাব দেবে।"
এরপরেই প্রজ্ঞা বলেন, "মমতা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন, তাঁর শাসন শেষ হয়ে এসেছে। তিনি পাগল হয়ে গিয়েছেন।" এর পরেই একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন প্রজ্ঞা। তিনি বলেন, শুদ্রদের বোধশক্তি কম। তাঁর কথায়, "একজন ক্ষত্রিয়কে ক্ষত্রিয় বললে সে রাগ করে না। একজন ব্রাহ্মণকে ব্রাহ্মণ বললে সে রাগ করে না। একজন বৈশ্যকে বৈশ্য বললে সে রাগ করে না। কিন্তু শুদ্রকে শুদ্র বললে তার খারাপ লাগে। এর কারণ কী। কারণ তারা বুঝতে পারে না।"