দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধারাভি বস্তির লোকেদের এখনও হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন খাওয়ানো হবে না। ম্যালেরিয়ার ড্রাগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা মাথায় রেখেই আপাতত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মহারাষ্ট্র স্বাস্থ্য দফতর।
ধারাভির কোয়ারেন্টাইনে থাকা সকলকে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার। বিপুল জনসংখ্যার ওই বস্তিতে সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং মেনে চলা একপ্রকার অসম্ভব। তার উপরে সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে ধারাভিতে। সুরক্ষার উপায় হিসেবে তাই হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের কথাই ভাবা হয়েছিল। আজ থেকেই শুরু হত ওষুধ খাওয়ানোর প্রক্রিয়া। তবে স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, নৈতিকতার দিকটাও মাথায় রাখা হয়েছে। এই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া চিন্তার বিষয়। সংক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ধারাভির বিপুল সংখ্যক লোকের উপরে এই ওষুধের খারাপ প্রভাব দেখা গেলে উদ্বেগ আরও বাড়বে।
মুম্বইয়ের ডেপুটি একজিকিউটিভ হেলথ অফিসার ডাক্তার দক্ষ শাহ বলেছেন, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের গাইডলাইন মেনেই প্রোটোকল ঠিক করা হবে। আইসিএমআর জানিয়েছেন, ঝুঁকির সম্ভাবনা আছে যাদের, তাদেরকেই এই ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে, তবে নির্দিষ্ট ডোজে। ডাক্তার বলেছেন, সংক্রমণ ঠেকাতে বস্তির লোকেদের কীভাবে এই ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে সেটা এখনই ঠিক করা যায়নি। আলোচনার পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সমীক্ষা অনুযায়ী এই ধারাভিতে একসঙ্গে বাস করেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ। একটা ঘরে ঠাসাঠাসি করে থাকা, একই বাথরুম অনেকে মিলে ব্যবহার করা, অপরিষ্কার-ঘিঞ্জি পরিবেশ—-এসবই এখানকার বাসিন্দাদের কাছে চেনা ছবি। মাস্কের অভাবে রুমাল কিংবা শার্টের হাতা মুখে বেঁধেই কাজ চালাচ্ছেন কেউ কেউ। সমস্যা সেই একটাই। মাস্ক কেনার মতো মতো সামর্থ নেই বস্তিবাসীদের। লকডাউনের জেরে ঘরবন্দি ধারাভির অধিকাংশ মানুষ। এক ঘরেই ঠাঁই নিয়েছেন অসংখ্য ভিন রাজ্যের শ্রমিক। কারণ সোশ্যাল ডিস্ট্যান্স বজায় রেখে আলাদা আলাদা ঘরে থাকার মত অবস্থা ধারাভিতে নেই। এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি এলাকা ধারাভিতে বসবাসকারী এই ১০ লক্ষ মানুষকে নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়েছে রাজ্য সরকারের।আরও মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে, পরিণাম ভয়ঙ্কর হতে পারে। কারণেই আগাম সতর্কতা হিসাবে হাইড্রক্লোরোকুইন ট্যাবলেট বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, হার্ট এবং রেটিনার উপর এই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকায় এখনই সবাইকে ওষুধ খাওয়ানো হবে না বলেই ঠিক হয়েছে। ওষুধের ডোজ ঠিক করতে হবে বুঝেশুনে। আইসিএমআরও জানিয়েছে, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন এখনও গবেষণার স্তরেই আছে। গাইডলাইন না মেনে এই ওষুধের প্রয়োগ বিপদ ডেকে আনতে পারে।