
শেষ আপডেট: 30 October 2020 18:30
ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ এখন ভারতের সেনার নিয়ন্ত্রণে। প্যাঙ্গং হ্রদের উত্তর ও দক্ষিণের উঁচু পাহাড়ি এলাকাগুলোতেই নিয়ন্ত্রণ কায়েম রেখেছে ভারতীয় বাহিনী। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যুদ্ধ করার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে তিব্বতি সেনাদের নিয়ে তৈরি মাউন্টেন ফোর্স তথা স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্সকে। তাদের কাছে আছে অত্যাধুনিক ইগলা ফায়ারিং সিস্টেম, কাঁধে নিয়ে মিসাইল ছোড়া যায় যে অস্ত্র থেকে।
প্যাঙ্গং সো হ্রদের ধার ঘেঁষেই রয়েছে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৩ ও ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪। ভারতীয় সেনা সূত্র জানাচ্ছে, প্যাঙ্গং হ্রদের দুই দিকেই সেনা মোতায়েন করে রেখেছে চিন। ফিঙ্গার পয়েন্ট ৩ এর কাছে পাহাড়ি পাদদেশে লাল সেনার তৎপরতা লক্ষ করা গেছে।
শীতের আগেই চিনের সেনাদের ঠেকাতে সীমান্তে আরও বেশি সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। প্যাঙ্গং রেঞ্জ, গোগরা, দেপসাং সমতলভূমিতে টি-৯০ ও টি-৭২ যুদ্ধট্যাঙ্কের পাশাপাশি একাধিক মিসাইল সিস্টেমও প্রস্তুত রেখেছে ভারতের বাহিনী। সীমান্তে বায়ুসেনার এয়ার ডিফেন্সও যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে তৈরি। ভারতের রণকৌশল দেখে চিন তাই নতুন করে তাদের সেনা বিন্যাস শুরু করেছে। ১৫৯৭ কিলোমিটার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন করার কাজ চলছে। প্রায় ৩ লক্ষ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে সামরিক পরিকাঠামো গড়ে তুলছে চিনের বাহিনী। অধিকৃত আকসাই চিন থেকে গোগরা-হট স্প্রিং অবধি বিস্তৃত এই সামরিক কাঠামো। আয়তনে প্রায় চারটি ফুটবলের মাঠের সমান। এখানে আর্মি ভেহিকল মোতায়েন করা হচ্ছে। মিসাইল সিস্টেম ও রাইফেল ডিভিশন তৈরি করছে পিপলস লিবারেশন আর্মি।
ভারতীয় বাহিনীর নর্দার্ন কম্যান্ড আগেই জানিয়েছিল, পাহাড় হোক বা সমতলভূমি, যে কোনও প্রতিকূল পরিবেশে যুদ্ধ করার মতো প্রশিক্ষণ আছে ভারতীয় সেনার। আবহাওয়ার বদল হোক বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়, কোনও কিছুই টলাতে পারবে না ভারতের বীর জওয়ানদের। মাউন্টেন ফোর্সকে গেরিলা যুদ্ধের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, পাহাড়ি এলাকার সীমান্ত পাহারা দেওয়ার জন্য তাদের কাছে আধুনিক অস্ত্রও আছে। তাই চিনের সেনা আগ্রাসন দেখানোর চেষ্টা করলে তা বরদাস্ত করা হবে না। ভারতীয় সেনার দাবি,চিনের সেনা সমতলভূমিতেই যুদ্ধের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। লাদাখের মতো এবড়ো খেবড়ো পাহাড়ি খাঁজে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করার মতো ক্ষমতা তাদের নেই। পাহাড়ি এলাকায় কী ধরনের রণকৌশল নিতে হবে, সে জ্ঞানও ঠিকমতো নেই চিনের সেনার।