
নিজস্ব ছবি
শেষ আপডেট: 17 March 2025 19:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘটনা ২০২৩ সালের। ২১ জানুয়ারি ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (ISF) প্রতিষ্ঠাতা দিবসে কলকাতার ধর্মতলায় একটি সভা ছিল। সেদিন সকালে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভাঙড়। অন্যদিকে ধর্মতলার সভায় ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ এবং আইএসএফের সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেফতার হন আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ (Nawsad Siddiqui)-সহ তাঁর দলের ১৮ জন।
আইএসএফ বিধায়ককে দেখতে ফুরফুরা শরিফের (Furfura Sharif) তিন পীরজাদা ও তাঁদের অনুগামীরা হাজির হয়েছিলেন লালবাজারে। প্রথমে সেই সাক্ষাৎ-এ পুলিশি বাধা পেলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, মমতার (Mamata Banerjee) উদ্দেশে তোপ দেগে বলেন, যাঁদের ভোটে তিনি সরকারে, তাঁদের অবহেলা করলে ফল ভাল হবে না। যদিও পরে লালবাড়িতে প্রবেশের অনুমতি পান তাঁরা।
তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হল, দু'বছর আগে যে পীরজাদারা মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে আক্রমণ শানিয়েছিলেন, আজ তাঁরাই মমতার সঙ্গে একই মঞ্চে ইফতার মজলিশে। যে পীরজাদারা 'অমুক' সময় 'তমুক' আক্রমণ করেছিলেন, তাঁদের অন্যতম ছিলেন আব্বাস সিদিকির তুতোভাই কাসেম সিদ্দিকি। তাঁকেও দেখা গেল অনুষ্ঠানে।
রাজ্য সচিবালয়ে গিয়ে গত সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি। ২২ মিনিট কথা বলেন ফুরফুরা শরিফের ছোট ভাইজান। তার এক সপ্তাহের মাথায় আজ ফুরফুরা সফরে গিয়েছেন মমতা। পর্যবেক্ষকদের মতে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। সেই গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই মঞ্চে তাঁরই একদা বিরোধী পীরজাদাদের উপস্থিতি।
এ ব্যাপারে আগেভাগেই আজ একপ্রকার বক্তব্য রেখেছিলেন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক তথা ভাঙড়ের তৃণমূল পর্যবেক্ষক শওকত মোল্লা। তিনি বলেন, "একটা সময় যারা তাঁকে নিয়ে কুৎসা করত, অপপ্রচার করত, আজ তারাই দিদির ডাকে সাড়া দিয়ে, সরকারের ডাকে সাড়া দিয়ে ইফতার মজলিশে আসছে। এটা নীতিগত জয় বলে মনে করি।"