
শেষ আপডেট: 8 June 2022 04:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলে সোনা পাচার চক্রে নাম জড়াল এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের (Pinarai Vijayan)। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত একজন আদালতে বয়ান দিয়ে জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী, কন্যা এবং তাঁর অফিসের একাধিক আধিকারিক এই ঘটনায় যুক্ত (Kerala CPM)।
আরও পড়ুন: যুদ্ধের তেজ কমেছে, ইউক্রেনের সিনেমা-থিয়েটারে উপচে পড়ছে ভিড়! ছন্দে ফিরছে কিয়েভ
স্বপ্না সুরেশ নামে ওই অভিযুক্তের বয়ান ঘিরে কেরলের রাজনীতিতে এখন তুলকালাম শুরু হয়েছে। সদ্যই একটি উপনির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে কংগ্রেসের কাছে হেরেছে সিপিএম। তারপর আবার মুখ্যমন্ত্রীর (Pinarai Vijayan) বিরুদ্ধে সোনা পাচার চক্রের নাম জড়ানোয় কংগ্রেস তেড়ে-ফুঁড়ে উঠেছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি কে সুধাকরণ সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, সিপিএমকে এবার সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা পিনারাই বিজয়নকে মুখ্যমন্ত্রী পদে রাখবে কিনা। অর্থাৎ তিনি ঘুরিয়ে বিজয়নের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
প্রসঙ্গত পিনারাই বিজয়ন (Pinarai Vijayan) সরকারের কিছু উন্নয়ন প্রকল্প, বিশেষ করে দ্রুতগতির ট্রেন সিলভার লাইন প্রজেক্ট নিয়ে তুমুল গোলমাল চলছে দক্ষিণের ওই রাজ্যটিতে। কংগ্রেস ওই প্রকল্প আটকাতে ব্যস্ত।
তার মধ্যে সোনা পাচার চক্রে অভিযুক্ত আদালতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নাম জুড়ে দেওয়ায় রাজনীতি নয়া মাত্রা পেয়েছে। পিনারাই ওই ঘটনায় এখনও মুখ খোলেননি। সিপিএম রাজ্য নেতৃত্বও প্রতিক্রিয়া দেখে নিতে চাইছে। তিরুবনন্তপূরম বিমানবন্দরে গতকাল মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি পড়ে গেলে তাঁকে ছেঁকে ধরে সংবাদমাধ্যম। তিনি নির্বাক থাকেন।
স্বপ্না সুরেশকে ২০২০ তে তিরুবনন্তপূরম বিমানবন্দরে গ্রেফতার করা হয়। তিনি কূটনৈতিক রক্ষাকবচ ব্যবহার করে দুবাই থেকে ৩০ কেজি সোনা নিয়ে দেশে ফেরেন। তিনি তখন ছিলেন কেরলের রাজধানীতে কর্মরত সংযুক্ত আরব আমির শাহীর কনস্যুলেট জেনারেলের সচিব। সমস্ত কেন্দ্রীয় এজেন্সি ওই ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে।
সূত্রের খবর, আদালতে সুরেশ বলেন, তিরুবনন্তপুরমের দূতাবাস থেকে প্রায়শই এটা ওটা মুখ্যমন্ত্রীর বাসায় যেত। সাধারণভাবে যা হওয়ার কথা নয়। তিনি আসলে ওই বক্তব্যের মাধ্যমে সোনা পাচারে মুখ্যমন্ত্রীর নাম জড়াতে চেয়েছেন। আদালতে তিনি ২০১৬-র একটি ঘটনাও তুলে ধরেন। সেবার পিনারাই প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন এবং দুবাই গিয়েছিলেন। আদালতে সুরেশ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী দুবাই থেকে ফেরার পর তাঁর অফিস থেকে বলা হয় তিনি ওখানে একটি ব্যাগ ভুল করে ফেলে এসেছেন। সেটি সংগ্রহ করে যেন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। সুরেশ আদালতে বলেছেন, দূতাবাস কর্মীরা ব্যাগটি স্ক্যান করে জানতে পারেন সেটির ভিতর বিপুল টাকা রয়েছে।