
শেষ আপডেট: 8 December 2021 10:39
পৃথিবীর সব সেনাবাহিনীতেই যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণের সময় দুর্ঘটনার নজির আছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু সেনার হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার নজির খুব বেশি নেই বুধবার চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফের হেলিকপ্টার পাহাড়ের উপর যেভাবে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে তা সত্যি অত্যন্ত দুশ্চিন্তার। বিস্তারিত অনুসন্ধানের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
যতটুকু মিডিয়া রিপোর্ট থেকে বুঝতে পারছি, তাতে সাধারণভাবে আমার তিনটি কারণ মনে হচ্ছে। প্রধান কারণ মনে হচ্ছে পাইলট পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে থাকতে পারেন। অবতরণের সময় বিভ্রান্তির শিকার হয়েছিলেন তিনি। দ্বিতীয় সম্ভাব্য কারণ আবহাওয়া এবং তৃতীয় কারণ হতে পারে, পাখির ধাক্কা।
আমরা সবাই জানি, গত কয়েকদিন ধরে তামিলনাড়ুতে লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে। হঠাৎ করে ঘূর্ণিঝড়ের কবলেওপড়েছিল রাজ্যটিও। চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফের মতো অফিসারের সফর অন্তত মাসখানেক আগে ঠিক হয়ে থাকে। সেই মতই প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
পড়ুন: বিপিন রাওয়াতকে নিয়ে ভেঙে পড়ল সেনা-কপ্টার! ছিলেন তাঁর স্ত্রীও, দেখুন উদ্ধারের ভিডিও
আবহাওয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফকে নিয়ে হেলিকপ্টার সফর সঠিক ছিল কিনা নিশ্চয়ই সেটা অনুসন্ধানে খতিয়ে দেখা হবে। তবে সাধারণভাবে পরিস্থিতি অনুকূল না থাকলে ফ্লাই করার প্রশ্নই থাকে না। ভারতীয় সেনার এই ব্যাপারে যথেষ্ট দক্ষতা এবং উপযুক্ত প্রযুক্তি রয়েছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার। ফলে আবহাওয়ার বিষয়টি এক্ষেত্রে কতটা কাজ করেছে সেটা এখনই বলা মুশকিল। তবে কোনও সম্ভাবনাই কখনও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আবার আবহাওয়ার আচমকা পরিবর্তনও অসম্ভব কিছু নয়।
দ্বিতীয় যে কারণটি, তা হল চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফকে নিয়ে যিনি ফ্লাই করবেন তিনি অবশ্যই সেনার অত্যন্ত দক্ষ ও পরীক্ষিত পাইলট। এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আমাদের দেশের অসামরিক ভিভিআইপি যেমন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী-- এঁদের বিমান, কপ্টার সেনার যে পাইলটরা ফ্লাই করেন, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ তো বটেই, অন্য পদস্থ অফিসারদের ক্ষেত্রেও তাঁদেরই ডিউটি দেওয়া হয়। ফলে বিপিন রাওয়াতকে নিয়ে যে একজন দক্ষ পাইলট হেলিকপ্টার উড়িয়েছিলেন এতে কোনও সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই।
সস্ত্রীক বিপিন ছাড়া আর কারা ছিলেন ভেঙে পড়া সেনা কপ্টারে
কিন্তু অনেক সময় যেটা হয়, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে অনেক দক্ষ ও প্রশিক্ষিত, পরীক্ষিত পাইলটও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেন। পাহাড়ি এলাকার কোনও হেলিপ্যাডে বিমান অবতরণ এমনিতেই খুব সহজ কাজ নয়। সমতলের তুলনায় পাহাড়ি এলাকার হেলিপ্যাডে অবতরণ অনেক বেশি কঠিন। ফলে পাইলট কোনও ভুল করেছেন, এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।
তৃতীয় কারণটি হচ্ছে, হঠাৎ কোনও পাখি সামনে চলে আসা। সাধারণভাবে মনে হয় যে কপ্টারের যে পাখা তাতে একটা পাখি কী আর এমন বিপদের কারণ হতে পারে!
কিন্তু যে দুর্ঘটনাগুলির নজির আছে, দেখা গিয়েছে যে কপ্টারের পেছনের পাখায় পাখির ডানা আটকে গিয়ে বিপত্তি ঘটিয়েছে। এমন হয়ে থাকলে কিন্তু কপ্টার বড় ধরনের সমস্যায় পড়বে। সেই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা অনেক সময় করা সম্ভব হয় না।
যে ধরনের হেলিকপ্টার সেনাধ্যক্ষর জন্য ব্যবহার করা হয়, সেগুলি রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও আমার মনে কোনও সংশয় নেই। তার কারণ সেগুলি যথেষ্ট দক্ষ ইঞ্জিনিয়াররা দেখভাল করেন এবং প্রতিটি মুহূর্ত সেগুলি কড়া নজরদারির মধ্যে থাকে। ফলে একজন সেনাধ্যক্ষ ওড়ার আগে কপ্টারটিকে উপযুক্ত ভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল বলেই ধরে নেওয়া যায়।
এই ধরনের ঘটনায় অনেকেই নাশকতার প্রশ্ন তুলবেন। আমি সেই সম্ভাবনা খুব একটা দেখছি না। তার কারণ অসামরিক ভিভিআইপি এবং সামরিক কর্তাদের বিমান, কপ্টার ইত্যাদি কড়া নজরদারির মধ্যে থাকে ফলে। নাশকতা করার সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। এখন বিস্তারিত তদন্তে সবটা জানা যাবে সেই অনুসন্ধানের অপেক্ষা।
বিপিন রাওয়াত যে চপারে ছিলেন তা কী গোত্রের হেলিকপ্টার? কী তার বৈশিষ্ট্য