দ্য ওয়াল ব্যুরো : কথা ছিল, শুক্রবার দুপুরেই ফিরবেন উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। কিন্তু তিনি ফিরলেন সন্ধ্যার পরে। কেন এত দেরি হল? জানা যাচ্ছে, মুক্তি দেওয়ার আগে উইং কম্যান্ডারকে দিয়ে একটি ভিডিও রেকর্ড করিয়েছে। সম্ভবত চাপ দিয়েই কিছু কথা বলিয়ে নেওয়া হয়েছে তাঁকে দিয়ে। ভিডিওতে তাঁকে যে কথাগুলি বলতে শোনা গিয়েছে, তা পাকিস্তানের প্রচারের সঙ্গে মানানসই।
স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটার সময় পাকিস্তানের সরকার মিডিয়ার কাছে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। তাতে অভিনন্দন নিজে বলেছেন, কীভাবে ধরা পড়েছিলেন। তিনি বলেছেন, আকাশসীমা লঙ্ঘন করে পাকিস্তানে ঢুকে পড়েন। সেখানে গোলার আঘাতে তাঁর বিমান ভেঙে পড়ে।
অভিনন্দনকে বলতে শোনা গিয়েছে, আমি নির্দিষ্ট লক্ষে আঘাত করার জন্য পাকিস্তানে ঢুকেছিলাম। কিন্তু পাকিস্তানের বায়ুসেনা আমার প্লেনকে গুলি করে নামিয়েছে। আমি প্যারাসুট নিয়ে প্লেন থেকে লাফ দিয়েছিলাম। আমার কাছে একটি পিস্তল ছিল। আমি যেখানে নামলাম, সেখানে অনেক লোক ছিল। বাঁচার একটিই উপায় ছিল আমার হাতে। আমি পিস্তলটি ফেলে দিয়ে দৌড়তে চেষ্টা করলাম।
শুনে নিন অভিনন্দনের কথা।
https://www.youtube.com/watch?v=Gspc8Rjn-K4&feature=youtu.be
তার পরের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অভিনন্দন বলেন, উপস্থিত জনতা আমাকে তাড়া করল। তারা ছিল অত্যন্ত ক্রুদ্ধ। ঠিক সেই সময় পাকিস্তানের দুই সেনা অফিসার এসে আমাকে বাঁচালেন। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ক্যাপটেনরা আমাকে জনতার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন। আমার কোনও ক্ষতি হতে দেননি।
পাকিস্তানের সেনার আরও প্রশংসা করে অভিনন্দন বলেছেন, সেনাবাহিনীর লোকেরা প্রথমে আমাকে তাদের শিবিরে নিয়ে গেল। সেখানে আমাকে ফার্স্ট এইড দেওয়া হল। পরে আমাকে নিয়ে যাওয়া হল হাসপাতালে। সেখানেও আমার চিকিৎসা করা হল। সেনাবাহিনীর লোকেরা আমাকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে রক্ষা করেছে। আমি মনে করি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী খুবই পেশাদারী মানসিকতাসম্পন্ন। আমি তাদের দক্ষতা দেখে মুগ্ধ। একইসঙ্গে অভিনন্দনকে ভারতীয় মিডিয়ারও সমালোচনা করতে শোনা গিয়েছে।
ভারতের বক্তব্য, বালাকোটে বায়ুসেনার বোমাবর্ষণের পরদিন পাকিস্তানের কয়েকটি যুদ্ধবিমান ভারতে ঢুকে পড়ে। ভারতের সেনাশিবিরে বোমাবর্ষণ করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। অভিনন্দনের মিগ বিমান সেই প্লেনগুলিকে তাড়া করেছিল। এমন সময় মিগ বিমানটি শত্রুর গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অভিনন্দন প্যারাসুট নিয়ে লাফিয়ে পড়েন। তাঁর প্যারাসুট নামে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে। সেখানে তিনি বন্দি হন।
পাকিস্তান শুক্রবার কখন অভিনন্দনকে ওয়াঘা সীমান্তে এনেছিল পরিষ্কার নয়। একটি সূত্রের খবর, তাঁকে লাহৌরে আনা হয়েছিল বিকাল চারটেয়। পাকিস্তানের মিডিয়ার খবর, ওয়াঘায় অভিনন্দনের নথিপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছিল। তাই তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া যায়নি।