“পায়রাগুলো আমাকে চিনতে পারে” – ট্রাফিকপুলিশ থেকে ‘পক্ষীমানব’ হয়ে ওঠার কথা
অন্তত এক দশক ধরে তিনি পাখিদের খাইয়ে আসছেন। একটা-দুটো পাখি নয়, নিয়মিত ভাবে দশ হাজার পায়রাকে খাওয়ান। তাই লোকমুখে এখন তাঁর নাম হয়ে গেছে পক্ষীমানব বা বার্ডম্যান।
ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার বারিপদার পুলিশ আধিকারিক সুরজ কুমার শর্মা শহরের বিভিন্ন জায়
শেষ আপডেট: 12 January 2020 05:41
অন্তত এক দশক ধরে তিনি পাখিদের খাইয়ে আসছেন। একটা-দুটো পাখি নয়, নিয়মিত ভাবে দশ হাজার পায়রাকে খাওয়ান। তাই লোকমুখে এখন তাঁর নাম হয়ে গেছে পক্ষীমানব বা বার্ডম্যান।
ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার বারিপদার পুলিশ আধিকারিক সুরজ কুমার শর্মা শহরের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে পাখিদের খাওয়ান। তাঁর কথায়, “ট্রাফিক পুলিশ আধিকারিক হিসাবে আমি যেমন আমার কাজ করি ঠিক একই ভাবে আমি এইসব পাখিদেরও খাওয়াই। ওরা যখন আমার কাছে এসে আমার হাত থেকে খাবার খুঁটে খায় তখন আমার খুব ভাল লাগে। আমি যেমন ওদের ভালবাসি ঠিক তেমনি ভাবে ওরাও আমায় ভালবাসে। কখনও কখনও এমনও হয় যে আমি ডিউটি করছি আর ওরা এসে আমার কাঁধে বসে পড়ল।”
তাঁর দাবি, ভিড়ের মধ্য থেকে পাখিরা ঠিক তাঁকে চিনে নিতে পারে।

রোজ সকালে হাজার হাজার পায়রা তাঁর জন্য অপেক্ষা করে থাকে। তিনি খাবার বের করার আগেই তারা একেবারে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
সূরজ কুমার শর্মা বলেন, “আমি যখন এইসব প্রাণীদের খাওয়াই তখন আমার খুব আনন্দ হয়। আমি অন্যান্য প্রাণীকেও খাওয়াই, যেমন গরু। যখনই ওরা দেখে যে আমি বাইকে চড়ে আসছি তখনই তারা আমার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে।”
বরিষ্ঠ পুলিশ আধিকারিক অভিমন্যু নায়ক জানান, সুরজ কুমার শর্মাকে এলাকার লোকজন পক্ষীমানব বলে ডাকেন। তিনি বলেন, “ওঁর এই কাজের জন্য আমরা গর্বিত। বিগত বহু বছর ধরে উনি জীবজন্তুদের খাইয়ে আসছেন। উনি নিজের কাজের ব্যাপারে খুবই সচেতন।”
গ্রাম-শহরে অনেক বাড়িতেই পাখিকে খাওয়ানোর চল রয়েছে। সকালের দিকে শস্যের ভাঙা দানা তাদের দেন গৃহস্থ। কেউ দেন ধান-চাল, কেউ গম। পাখিরা উঠোনে বা ছাদে এসে সেইসব খাবার খুঁটে খায়। কিন্তু শহরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ঘুরে পাখিদের খাওয়ানো সত্যিই বিরল।
পোষা প্রাণীরা বাড়ির লোকজনকে চেনে ঠিকই। তবে শহরের মানুষের ভিড়ে একজনকে চিনে নিয়ে তাঁর কাঁধে-মাথায় বসার কথা একেবারেই শোনা যায় না।