
শেষ আপডেট: 17 September 2021 13:44
সহজ করে বলা যাক। ধরুন, কোনও দোকান বা ব্র্যান্ডের জামা বা শাড়ি পছন্দ হল। সেটা অনলাইনে বেছে সিলেক্ট করে অর্ডার দিলেন। এবার অপশন থাকবে সেই দোকানে গিয়ে জিনিসটা চাক্ষুস করার। সেই রঙ, সেই ডিজাইনই আছে তো, নিজে দেখেশুনে বিচার করে কেনার। মানে অনলাইনে কেনাও হল আবার সশরীরে দোকানে যাওয়াও হল। এক্ষেত্রে ভিড়ে ধাক্কাধাক্কি করে বাছাই করার ঝক্কি থাকবে না, কারণ সেটা আগেই সেরে রেখেছেন। দোকানে গিয়ে শুধু একবার চোখে দেখে জিনিসটা নিয়ে আসা। প্রয়োজনে ট্রায়াল দিয়ে নেওয়া। যদি এরপরেও অপছন্দ হয়, তাহলে অর্ডার ক্যানসেল করে দিলেই হবে। দোকানদারের বিরক্তি নেই। কর্মীদের ক্লান্তি নেই। ভিড়ে চিড়েচ্যাপ্টা হয়ে বাজার করার দরকারও নেই। শপিং মল, শো-রুম গুলোর প্রয়োজনও মিটবে, ক্রেতারও।
করোনা অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেছে। দেশ এখন এন্ডেমিক পর্যায়ে চলে এলেও ভাইরাস নিয়ে বাঁচাই অভ্যাস করতে হবে। কাজেই জীবনযাপনের ধরনেও বদল আনতে হবে। করোনা-পরবর্তী সময়ে তাই ফিজিটাল শপিংয়ের দিকেই ঝুঁকছে বিশ্ব। জামাকাপড়, প্রসাধনী, ব্যাগ-জুতো, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র থেকে গ্যাজেট—যাই হোক না কেন, কেনাকাটার ধরনটা একপেশে না করে বরং তাতে বদল আনারই চেষ্টা চলছে। কোভিড কালে ডিজিটাল শপিং এর চাহিদা বেড়েছে, বড় বড় শপিং মল, শো-রুম গুলো খাঁ খাঁ করছে। ব্যাবসা লাটে উঠেছে অনেকেরই। কাজেই এখন যদি ফিজিটাল শপিং-এর বন্দোবস্ত করা যায়, তাহলে সবদিকই রক্ষা পায়। অনলাইনে বাছাইয়ের কাজটাও সেরে রাখা যায়, আবার নিজে পরখ করে শপিংটাও হয়। ক্রেতাও খুশি, বিক্রেতাও।
বেঙ্গালুরুতে ইতিমধ্যেই ফিজিটাল শপিং চালু হয়ে গেছে। মেট্রো ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারির সিইও অরবিন্দ মেদিরাট্টা বলছেন, গত তিন-চার বছর ধরে কেনাকাটার ডিজিটালাইজেশন হয়েছে। এখন সেটাই হাইব্রিড-শপিংয়ে বদলে যাবে। গ্রাহকরা সেরা জিনিসটাই কিনতে চান। তাছাড়া বেশি সময়ও নেই কারও কাছে। তারপর কোভিড গাইডলাইন মেনে ভিড় বা ঘেঁষাঘেঁষি করে দোকানে ঢোকাও যাবে না। সেদিক থেকে এই পদ্ধতিই সেরা।
ভিন রাজ্যে শুধু নয়, এ রাজ্যেও ফিজিটাল শপিং চালু হয়েছে কিছু জায়গায়। শপিং প্রিয় বাঙালি এই ফিজিটাল ব্যাপারটাকে কতটা আত্তীকরণ করতে পারে সেটা সময়ই বলবে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'